মৃত আফগানদের হাতে অস্ত্র গুঁজে দেওয়ার কথা জানতেন অস্ট্রেলীয় এসএএস কর্মকর্তারা, থামাননি: প্রতিবেদন

অস্ট্রেলিয়ার এসএএস বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা জানতেন যে তাদের অধীন সৈন্যরা মৃত আফগান বেসামরিকদের যোদ্ধা হিসেবে দেখাতে তাদের হাতে অস্ত্র গুঁজে দেওয়ার (‘থ্রোডাউন’) বেআইনি কৌশল ব্যবহার করছেন, কিন্তু তা থামাতে তারা কিছুই করেননি — আগে অপ্রকাশিত একটি সামরিক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।
এ সপ্তাহে অনলাইনে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি হলো অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিদর্শকের (আইজিএডিএফ) ২০২১ সালের একটি তদন্তের নির্বাহী সারাংশ, যেখানে বিশেষ অভিযান কমান্ডের ‘সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট’ খতিয়ে দেখা হয়েছিল। আফগানিস্তানে বিশেষ বাহিনীর অভিযানের সময় ‘কমান্ডের ভাঙন’ ও সামরিক শৃঙ্খলার ক্ষয় নিয়ে প্রতিবেদনটি কঠোর সমালোচনা করেছে এবং বলেছে, এর ফলে ‘সম্ভাব্য ও প্রকৃত জঘন্য আচরণের’ ঘটনা ঘটেছে।
এর আগে ২০২০ সালে প্রকাশিত আইজিএডিএফের ব্রেরেটন তদন্তে বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া গিয়েছিল যে অস্ট্রেলীয় বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ৩৯ জন আফগান বেসামরিক ও বন্দিকে হত্যা করেছিলেন। তবে ব্রেরেটন প্রতিবেদন কর্মকর্তাদের বড় অংশে দায়মুক্তি দিয়েছিল; তাতে বলা হয়েছিল, উদঘাটিত ‘অপরাধমূলক আচরণ’ প্যাট্রোল কমান্ডার পর্যায়ে পরিকল্পিত, সংঘটিত, অব্যাহত ও গোপন রাখা হয়েছিল। অস্ট্রেলীয় এসএএসে প্যাট্রোল কমান্ডাররা কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নন, তারা সাধারণত করপোরাল বা সার্জেন্ট হন।
নতুন প্রকাশিত প্রতিবেদনটি ব্রেরেটন তদন্তের ফলাফলের পর ২০২১ সালে তৎকালীন প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধান ও সাবেক এসএএস কর্মকর্তা অ্যাঙ্গাস ক্যাম্পবেলের নির্দেশে তৈরি হয়েছিল। এতে দেখা গেছে, কিছু এসএএস কর্মকর্তা কথিত ‘বেআইনি আচরণের’ কথা জানতেন এবং তা থামাতে কোনো পদক্ষেপ নেননি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘মাঠপর্যায়ে অসদাচরণ সম্পর্কে প্রকৃত জ্ঞান রাখা কর্মকর্তারা, বিশেষ করে প্রতারণামূলক প্রতিবেদন তৈরির জন্য থ্রোডাউনের ব্যবহার কিংবা অসদাচরণের গুজব সম্পর্কে জানা কর্মকর্তারা, এসব বিষয় তদন্ত ও মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।’
আইজিএডিএফের চিহ্নিত বেআইনি আচরণ ‘কমান্ডের ভাঙন’ ও অকার্যকর নেতৃত্বের প্রকাশ বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, শ্রেণিবদ্ধ ব্যবস্থা হিসেবে প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঠিক কার্যকারিতা সব স্তরে নিয়ম প্রয়োগের ওপর নির্ভর করে; তা করতে ব্যর্থতার ক্ষয়কারী প্রভাব পড়ে আচরণ, মনোবল ও শেষ পর্যন্ত সামরিক শৃঙ্খলার ওপর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এসএএস কর্মকর্তারা রেজিমেন্টটিকে একটি ‘অনিয়ন্ত্রিত যোদ্ধা চেতনা’ গড়ে তুলতে দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর আফগান সংঘাত, যেখানে এসএএস সৈন্যদের একটি ছোট দলকে বারবার বিপজ্জনক ও ক্ষয়কারী মিশনে পাঠানো হয়েছিল, তা নৈতিক আঘাত ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল বলেও এতে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসএএসের অতিরিক্ত গোপনীয় ও অন্তর্মুখী প্রকৃতিও মানদণ্ডের অবনতিতে ভূমিকা রেখেছিল। পাশাপাশি কমান্ডের শৃঙ্খল ‘উল্টে যাওয়ার’ ঘটনাও ঘটেছিল, যেখানে জ্যেষ্ঠ নন-কমিশনড কর্মকর্তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছিলেন।
এর ফলে কনিষ্ঠ কর্মকর্তারা কার্যত নন-কমিশনড কর্মকর্তাদের অধীনস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং তাদের অবস্থানকে প্রতিবেদনে ‘শেখা অসহায়ত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালনের সময় এসএএস সৈন্যদের ধারাবাহিকভাবে মদ পানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল — অন্যদের ওপর আরোপিত নির্দেশ অমান্য করে — যা সংশ্লিষ্টদের কাছে ‘শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছিল যে নিয়ম তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়’।
যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের কর্মকাণ্ড নিয়ে সৈন্যরা মিথ্যা প্রতিবেদনও লিখতেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বেসামরিক ‘স্কুইর্টারদের’ যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী হিসেবে বর্ণনা করে তাদের ওপর হামলাকে নিয়ম অনুযায়ী ন্যায্য দেখাতে ‘কৌশলগত সুবিধার অবস্থানে যাওয়া’ ধরনের একটি প্রমিত বাক্যাংশের নানা রূপ বারবার ব্যবহার করা হতো; বাক্যাংশটি এত নিয়মিত ব্যবহৃত হতো যে তা অর্থ হারিয়ে ফেলেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের নির্বাহী সারাংশে বলা হয়েছে, এসএএস কমান্ডারদের মধ্যে ‘ভালো নেতৃত্ব ও কার্যকর কমান্ডের উল্লেখযোগ্য ব্যর্থতা’ ছিল এবং অসদাচরণ রোধের জন্য তৈরি প্রতিবেদন ব্যবস্থা ‘ক্ষয়প্রাপ্ত ও বড় অংশে অবিশ্বস্ত’ হয়ে পড়েছিল, যা কর্মকর্তাদের ‘মিথ্যা আশ্বাস’ দিয়েছিল। এতে বলা হয়, বিশেষ অভিযান টাস্ক গ্রুপের সংস্কৃতি অসদাচরণের কারণ ছিল না, তবে তা ‘কয়েকজনের অসদাচরণ ঘটার পরিবেশ’ তৈরি করেছিল।
তথ্য স্বাধীনতা আইনে করা আবেদন ও সিনেটে প্রকাশে বাধ্য করার চেষ্টা সত্ত্বেও প্রতিরক্ষা বিভাগ এর আগে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল।




