অস্ট্রেলিয়ার মেনিন্ডি হ্রদে পানি পাঁচ বছরের সর্বনিম্নে, গ্রীষ্মে ব্যাপক মাছ মরার আশঙ্কা

অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের পশ্চিমাঞ্চলের মেনিন্ডি হ্রদগুলোতে পানির স্তর গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। এ অবস্থায় রাজ্য সরকার উজানে পানির ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, আর বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গ্রীষ্মে সেখানে ব্যাপক হারে মাছ মারা যেতে পারে।
চলতি মাসের শুরুতে মেনিন্ডি হ্রদগুলোর সম্মিলিত পানির পরিমাণ ৪৮০ গিগালিটারের নিচে নেমে যায়। ২০২১ সালের পর এই প্রথম পানি এত নিচে নামল।
মেনিন্ডি হ্রদগুলোর উজানের অংশে পানির পরিমাণ ২৫০ গিগালিটারের নিচে নেমে গেছে। এই স্তরটি এমন একটি সীমা, যেখানে পৌঁছালে মারে-ডার্লিং অববাহিকার উত্তর অংশের কিছু এলাকায় রাজ্যের পক্ষ থেকে সাময়িক পানি-বিধিনিষেধ চালু হয়।
এই বিধিনিষেধে কিছু সেচকারীর পানি পাওয়ার সুযোগ সীমিত হবে। এর উদ্দেশ্য, মানুষের জরুরি প্রয়োজনের জন্য এবং পরিবেশের জন্য পানি সংরক্ষণ করা।
গত ১২ মাস ধরে ওই এলাকার জলাধার এলাকায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডার্লিং-বাকা নদী হয়ে মেনিন্ডি হ্রদগুলোতে পানির প্রবাহ না বাড়লে গ্রীষ্মে মাছ মরার ঝুঁকি বাড়তে থাকবে।
মেনিন্ডি ২০১৮, ২০১৯ ও ২০২৩ সালে ভয়াবহ মাছ মরার ঘটনার স্থান ছিল। সেসব ঘটনায় ডার্লিং-বাকা নদীর দীর্ঘ অংশজুড়ে লাখ লাখ মৃত মাছ ভেসে উঠেছিল।
অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ওয়েন্টওয়ার্থ গ্রুপ অব কনসার্নড সায়েন্টিস্টসের অধ্যাপক জেমি পিটক বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তারা একধরনের নিশ্চয়তার সঙ্গে পূর্বাভাস দিচ্ছেন, বাকা-ডার্লিং নদীতে আরও পানি না এলে এই গ্রীষ্মে মেনিন্ডিতে মাছ মরবেই। তিনি বলেন, একটি বড় বৃষ্টিপাতের ঘটনা দরকার, আর প্রথম ঢেউয়ের পানি সেচকারীদের তুলে নেওয়া থেকে রাজ্য সরকারগুলোকে বিরত রাখতে হবে।
মেনিন্ডির বাসিন্দা গ্রেম ম্যাকক্র্যাব, যিনি ২০১৮-১৯ সালের বিপর্যয়ের বিষয়ে প্রথম দিকের সতর্ককারীদের একজন ছিলেন, বলেছেন, মেনিন্ডি হ্রদগুলোর সম্মিলিত পানি এখন ‘খরা মজুতের’ পরিমাণে পৌঁছেছে। তাঁর ভাষায়, এর কার্যকর অর্থ হলো যেকোনো মূল্যে পানি সংরক্ষণ করা।
ম্যাকক্র্যাব বলেন, কুইন্সল্যান্ডে সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে মেনিন্ডি ব্যবস্থায় কিছুটা পানি ফিরতে পারে বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, কুইন্সল্যান্ড সীমান্ত পার হয়ে এখন কিছু ছোট প্রবাহ আসছে, যা গ্রীষ্মের জন্য কিছুটা আশা জোগাচ্ছে, তবে এর ওপর আরও পানি দরকার হবে।
ম্যাকক্র্যাব বলেন, প্রবাহ না এলে জানুয়ারি বা ফেব্রুয়ারিতে মাছ মরার ঝুঁকি খুব বেশি থাকবে। তুলনামূলক মৃদু গ্রীষ্ম হলে ঝুঁকি কমতে পারে। তিনি বলেন, মাছ মরা নিয়ে তিনি সত্যিই উদ্বিগ্ন, আর পানিতে সেই সবুজ শৈবালের রং দেখা দিতে শুরু করলে সময়টা কঠিন ও দুঃখের হয়ে ওঠে।
পানি কম থাকা এবং দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে গরম গ্রীষ্মের আভাসের মধ্যে নিউ সাউথ ওয়েলসের পানিমন্ত্রী রোজ জ্যাকসন বলেছেন, এই গ্রীষ্মে মেনিন্ডির চ্যালেঞ্জকে কেউই ছোট করে দেখছেন না। তিনি বলেন, সরকারের মনোযোগ সামনের মাসগুলোতে পানির মান ও স্থানীয় মাছ রক্ষায় যা করা সম্ভব, তার সবটুকু করায়।
জ্যাকসন বলেন, কিছু পানি-ব্যবহারকারীর জন্য সাময়িক বিধিনিষেধের পাশাপাশি সরকার স্থানীয় মাছের চলাচল সহজ করতে একটি সাময়িক মাছ-পথ তৈরি করেছে এবং একটি পানির মানবিষয়ক কর্মীদল গঠন করেছে। তিনি বলেন, উল্লেখযোগ্য প্রবাহ এলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, তবে সরকার বৃষ্টির অপেক্ষায় বসে নেই।
২০২৩ সালের রাজ্য নির্বাচনে জয়লাভের কয়েক দিন পর নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রিমিয়ার ক্রিস মিন্স ও জ্যেষ্ঠ মন্ত্রীরা মেনিন্ডি সফর করে ব্যাপক মাছ মরার তদন্তের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। উত্তর অববাহিকা সংযোগ কর্মসূচির অধীনে একটি বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠিত হয়, যা শুষ্ক সময়ে উজানে অতিরিক্ত পানি তোলা সীমিত করার সুপারিশ করেছিল, যাতে ডার্লিং-বাকা নদীতে উপনদীগুলোর প্রবাহ বজায় থাকে।
প্যানেলটি দুই বছর আগে তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিলেও রাজ্য সরকার এখনো তা বাস্তবায়ন করেনি। ম্যাকক্র্যাব বলেন, সংযোগ প্যানেলের সুপারিশ সরকার অনুসরণ না করায় তিনি হতাশ। তিনি বলেন, মাছ মরার ঘটনার পর থেকে পানির মানের ফলাফল উন্নত করতে সরকারি সংস্থাগুলো কোনো নীতিগত পরিবর্তন আনেনি।




