অস্কার-মনোনীত অভিনেত্রী বারবারা ব্যারি আর নেই, মারা গেলেন ৯৫ বছর বয়সে

অস্কার-মনোনীত মার্কিন অভিনেত্রী বারবারা ব্যারি ৯৫ বছর বয়সে মারা গেছেন। ‘বার্নি মিলার’ ও ‘সাডেনলি সুসান’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণঘাতী ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার পর তিনি মারা যান। তাঁর মেয়ে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসকে বলেছেন, নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিজের বাড়িতে চিকিৎসা-সহায়তায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ব্যারির টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র জীবন ১৯৫০-এর দশক থেকে গত বছর পর্যন্ত কয়েক দশক ধরে বিস্তৃত ছিল।
ছোট পর্দায় তিনি পুলিশ ধারাবাহিক ‘বার্নি মিলার’-এ বার্নি মিলারের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন; ধারাবাহিকটি ১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত চলেছিল। ‘সাডেনলি সুসান’ ধারাবাহিকে তিনি ব্রুক শিল্ডসের দাদি-নানির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।
১৯৭৯ সালের ‘ব্রেকিং অ্যাওয়ে’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি অ্যাকাডেমি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। ১৯৬৪ সালের ‘ওয়ান পটেটো, টু পটেটো’ চলচ্চিত্রের জন্য তিনি কান চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছিলেন।
অস্কারে তিনি ‘ক্রেমার ভার্সেস ক্রেমার’ চলচ্চিত্রের জন্য মেরিল স্ট্রিপের কাছে হেরে যান। তিনি ১৯৮০ সালের ‘প্রাইভেট বেঞ্জামিন’ চলচ্চিত্রে গোল্ডি হনের মায়ের চরিত্রেও অভিনয় করেছিলেন।
ব্যারি ব্রডওয়ের একজন সক্রিয় অভিনেত্রীও ছিলেন। স্টিফেন সন্ডহাইমের ‘কোম্পানি’ নাটকের ১৯৭০ সালের মূল অভিনয়শিল্পী দলে অভিনয়ের জন্য তিনি টনি পুরস্কারের মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
তিনি ১৯৫৫ সালে ‘দ্য উডেন ডিশ’ নাটক দিয়ে ব্রডওয়েতে অভিষেক করেন। টেক্সাসে কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর তিনি নিউ ইয়র্কে চলে এসেছিলেন। ১৯৬৩ সালে অ্যাক্রন বিকন জার্নালকে তিনি বলেছিলেন, তিনি সেখানে গিয়েছিলেন মূলত একজন মানুষের কারণে।
তিনি বলেছিলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি যাওয়ার একমাত্র কারণ ছিল আমার এক প্রেমিক সেখানে থাকত। আমাদের বিয়ে করার কথা ছিল, কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে তা হয়নি। যেহেতু আমি এত কষ্ট করে নিউ ইয়র্কে চলে এসেছিলাম, ভাবলাম অভিনয়টা চেষ্টা করে দেখি।’
২০২৪ সালে ওয়েস্টসাইড র্যাগকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্যারি বলেছিলেন, তিনি ৫৫ বছর ধরে অভিনয় করছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমার মনে হয় ভালো অভিনেতা হতে ৪৫ বছর লেগেছে। এত সময়ই লাগে। আপনি সবকিছু ঝেড়ে ফেলেন—সব বাড়তি জিনিস, সব অহং, সব মেজাজ—এবং শুধু যে চরিত্রটি করছেন তার সঙ্গেই থাকেন।’



