সাজেক সড়কে অষ্টম দিনের অবরোধ: গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন, যান চলাচল বন্ধ

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্রের সড়কে অষ্টম দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে সাজেক সড়কের কয়েকটি জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে তাতে আগুন দেন অবরোধকারীরা। এর ফলে এই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
পাঁচ দফা দাবি আদায়ে গত ২২ অক্টোবর থেকে তৃতীয় দফায় এই কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটির মূল দাবি—সাজেক এলাকা থেকে জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া।
গত সোমবার বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা পৌনে ৬টা পর্যন্ত সাজেক ইউনিয়নের উজোবাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতাদের বৈঠক হয়। বৈঠকে পাঁচ দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওয়াদুদ ভূঁইয়া। তবে প্রধান দাবির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় অবরোধ প্রত্যাহারের পথ তৈরি হয়নি।
সোমবার রাতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে সংগঠনটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা জানান, সরকার তাদের প্রধান দাবি বাস্তবায়নে নির্দিষ্ট আশ্বাস দিতে পারেনি। তিনি বলেন, এই দাবি পূরণে সরকার প্রথমে এক মাস সময় চাইলেও আন্দোলনকারীরা তিন দিন সময় দিতে রাজি ছিলেন; পরে সরকার ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় চাইলে তারা আরও পাঁচ দিন অপেক্ষা করতে সম্মত হন।
নিশ্চিত আশ্বাস না পাওয়ায় অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে বাবুধন চাকমা জানান। তবে সরকার আবার আলোচনায় বসতে চাইলে আন্দোলনকারীরা প্রস্তুত রয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্দোলনকারীদের পাঁচ দাবির মধ্যে রয়েছে—২২ অক্টোবর অবরোধ চলাকালে হামলার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্ত; উজোবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষতিপূরণ এবং সেখান থেকে সেনা ও পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার; হামলায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ; সাজেক থেকে জেএসএস-সন্তু লারমা গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নেওয়া এবং চাঁদাবাজি ও জুলুম বন্ধে ব্যবস্থা; পাশাপাশি আন্দোলনকারীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি ও বাড়িঘর-ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে তল্লাশি বন্ধ করা।
এই আন্দোলনের শুরু গত ১১ অক্টোবর থেকে। জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে প্রত্যাহার, স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের দেওয়া আগের আশ্বাস বাস্তবায়নের দাবিতে সেদিন থেকে আন্দোলন শুরু করে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রাখা হয়। এরপর সংগঠন দুটি ২২ অক্টোবর থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দেয়।
অবরোধ শুরুর দিন, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সাজেক পর্যটন সড়কে উত্তেজনা, সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। সেদিন অবরোধের মুখে সাজেক ভ্যালিতে ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটক আটকা পড়েন।
সকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ সাজেক থেকে পর্যটকদের গাড়িবহরকে নিরাপত্তা দিয়ে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা করে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনভয়টি সাজেকের উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে আন্দোলনকারী ও পিকেটাররা সড়কে ব্যারিকেড ও টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে পথরোধ করে। দীর্ঘ আলোচনার পরও অবরোধকারীরা পথ ছাড়তে রাজি না হওয়ায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
অষ্টম দিনে এসেও অবরোধ অব্যাহত থাকায় সাজেক ভ্যালির পর্যটন ও স্থানীয় যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সোমবারের বৈঠকে চারটি দাবিতে সমঝোতা হলেও প্রধান দাবি নিয়ে সিদ্ধান্ত না আসায় কর্মসূচি প্রত্যাহারের কোনো ঘোষণা এখনো আসেনি।



