হাইতিতে আরও ২ হাজারের বেশি সেনা পাঠাচ্ছে এল সালভাদর, নির্বাচন পিছিয়ে গেল ২০২৭ সালের জুলাইয়ে
হাইতিতে আরও দুই হাজারের বেশি সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে এল সালভাদর। নিখোঁজ চার এল সালভাদরীয় বিমান-কারিগরি সদস্যকে খুঁজে বের করা এবং সশস্ত্র গ্যাংদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সহায়তা করাই এই মোতায়েনের লক্ষ্য। ক্যারিবীয় দেশটি একই সময়ে আবারও তার নির্বাচন পিছিয়ে দিয়েছে।
এল সালভাদরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এই মোতায়েনের ঘোষণা দেয়। একই দিনে হাইতির নির্বাচনি কর্তৃপক্ষ প্রেসিডেন্ট ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের প্রথম পর্ব ১৩ ডিসেম্বর থেকে পিছিয়ে ২০২৭ সালের ১৮ জুলাই নির্ধারণ করে।
এই বিলম্ব নির্বাচিত সরকার ফিরিয়ে আনার পথে আরেকটি ধাক্কা। গ্যাং সহিংসতার কারণে দেশটিতে ভোটের প্রস্তুতি নেওয়াই বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
নিখোঁজ চার এল সালভাদরীয় সদস্য গত ১৮ অক্টোবর রাজধানী পোর্ট-অ-প্রিন্সের পূর্বে ক্রোয়া-দে-বুকে এলাকায় সশস্ত্র ব্যক্তিদের অতর্কিত হামলার শিকার হন; তাদের গাড়িতে হামলার পর থেকে তারা নিখোঁজ।
তারা হাইতির পুলিশকে সহায়তাকারী একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মিশনে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে ইতিমধ্যে তাদের খুঁজতে সেনা পাঠিয়েছেন। গত ২১ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে হাইতিয়ান ক্রেওলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হুমকি দেন, নিখোঁজ সদস্যদের মুক্তি না দিলে হাইতির গ্যাংগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে।
বুধবার বুকেলে হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ের ফিলস-এমের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ফিলস-এমের দপ্তর জানায়, উদ্ধার অভিযান ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহযোগিতা জোরদারে দুজনে একমত হয়েছেন।
তবে অতিরিক্ত এল সালভাদরীয় সেনারা জাতিসংঘ-সমর্থিত গ্যাং দমন বাহিনীতে যোগ দেবে, নাকি আলাদাভাবে কাজ করবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এই বহুজাতিক মিশনটি হাইতির পুলিশকে গ্যাংদের বিরুদ্ধে সহায়তা করছে।
২০২৪ সাল থেকে জাতিসংঘ-সমর্থিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অধীনে হাইতিতে বিদেশি সেনা দায়িত্ব পালন করছে, যার একটি উদ্দেশ্য নির্বাচনের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা।
নির্বাচন আয়োজনকারী নয় সদস্যের অস্থায়ী নির্বাচন পরিষদ দ্বিতীয় পর্বের ভোট ও স্থানীয় নির্বাচনের তারিখ ২০২৭ সালের ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করেছে। প্রার্থী নিবন্ধনের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে এবং অনলাইন ভোটার নিবন্ধন চালু করা হয়েছে।
মিয়ামি হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৯ লাখেরও কম মানুষ, অথচ নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র রয়েছে ৬৫ লাখ হাইতিয়ানের কাছে। গ্যাং-নিয়ন্ত্রিত সড়কের কারণে নিবন্ধন কেন্দ্রে পৌঁছানো কঠিন, আর সহিংসতা অনেক মানুষকে ঘরছাড়া করেছে।
২০১৬ সালের পর থেকে হাইতিতে কোনো নির্বাচন হয়নি এবং দেশটির সর্বশেষ প্রেসিডেন্ট জোভেনেল মোইস ২০২১ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন। নিরাপত্তাহীনতার কথা বলে ধারাবাহিক অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষ ভোটে ফেরা পিছিয়ে দিয়ে আসছে।
বুধবার প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক খাদ্য নিরাপত্তা মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ৫৯ লাখ ৪০ হাজার হাইতিয়ান তীব্র ক্ষুধার মুখে রয়েছে, যাদের মধ্যে ১৮ লাখ মানুষ জরুরি অবস্থায় আছে। সহিংসতা চাষাবাদ ও খাদ্য সরবরাহ ব্যাহত করছে।
মূল্যায়ন অনুযায়ী, তীব্র ক্ষুধার মুখে থাকা মানুষের সংখ্যা ২০২৭ সালের মাঝামাঝি নাগাদ বেড়ে ৬৩ লাখ ৫০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।



