অস্ট্রেলিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মী প্রস্তাব দিয়ে প্রভাব খাটানোর অভিযোগ ওয়ান নেশনের

অস্ট্রেলিয়ার ওয়ান নেশন দল অভিযোগ করেছে, প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ তাদের একজন সংসদ সদস্যকে অতিরিক্ত একজন কর্মী দেওয়ার অনাকাঙ্ক্ষিত প্রস্তাব দিয়ে অনুচিত রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করেছেন।
ওয়ান নেশনের নেত্রী পলিন হ্যানসন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ওয়ান নেশনের সংসদ সদস্য ডেভিড ফারলিকে অতিরিক্ত কর্মী দেওয়ার এই প্রস্তাব করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে নতুন রাজনীতিকটিকে নিজের দিকে টানার চেষ্টা। অতিরিক্ত ওই কর্মীর বেতন বাবদ করদাতাদের ২ লাখ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
হ্যানসন বলেন, সংসদ সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত কর্মী চেয়ে ওয়ান নেশনের বিদ্যমান অনুরোধের বাইরে এই প্রস্তাব এসেছে। তার ভাষায়, ‘ডেভিড এই কর্মী বরাদ্দ চাননি। এই কর্মী দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী কোনো কারণও জানাননি।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত কয়েক সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে দুজনের মধ্যে ব্যক্তিগত বৈঠকও হয়েছে।
সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউ সাউথ ওয়েলসের ফারার নির্বাচনী এলাকার সংসদ সদস্যকে আরেকজন কর্মী নিয়োগের অনুমতি দিয়ে চিঠি সোমবার প্রধানমন্ত্রীর দলের একজন সদস্য ক্যানবেরায় পার্লামেন্ট হাউসে ফারলির কার্যালয়ে হাতে হাতে পৌঁছে দেন।
হ্যানসন বলেন, আলবানিজ করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে রাজনীতিকদের ওপর অনুচিত রাজনৈতিক প্রভাব খাটাতে চাইছেন বলে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, ‘আমরা এই নোংরা লেনদেন প্রকাশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, কারণ আলবানিজের লেবার সরকার পর্দার আড়ালে কী করছে, তা জনগণের জানার অধিকার আছে।’
ফারলি অনাকাঙ্ক্ষিত ওই অতিরিক্ত কর্মীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে লেবারে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তিনি চূড়ান্তভাবে উড়িয়ে দেননি। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, ফারারের প্রতিনিধিত্বের জন্য তিনি যে দল খুঁজেছিলেন, সেখানে রাজনৈতিক সাহস ও দৃঢ়তা দরকার ছিল এবং তিনি ওয়ান নেশনে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে কর্মী বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েন আলবানিজ, যার মধ্যে সাবেক লেবার সিনেটর ফাতিমা পেম্যানের আরও অর্থায়নের দাবিও ছিল। আলবানিজ বলেন, লেবার ছেড়ে ক্রসবেঞ্চে যাওয়ার আগের তুলনায় এখন স্বতন্ত্র হিসেবে বসা পেম্যানের একজন কর্মী বেশি রয়েছে।
সংসদজুড়ে সংসদ সদস্যদের করদাতা-অর্থায়িত কর্মী বরাদ্দের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা উপযুক্ত কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আলবানিজ দেননি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছে।



