কুষ্টিয়ায় ছয় হত্যার রায়কে স্বাগত জানালেন চিফ প্রসিকিউটর, হানিফের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরলেন তিনি

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফসহ চার আসামির সাজাকে স্বাগত জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রায় ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলার বিচার শেষে ট্রাইব্যুনাল রায় দিয়েছেন। রায়টি অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে। জুলাই শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রসিকিউশন এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন মাহবুব উল আলম হানিফ। ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার ও নির্বিচারে গুলি চালানোসহ বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নে তাঁর সহযোগিতা ছিল।
তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের বৈঠকে অধীনস্থ নেতাকর্মীদের বলপ্রয়োগের নির্দেশও দিয়েছিলেন হানিফ।
আমিনুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল এই সাজা দিয়েছেন।
সাজার বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ব্যক্তিগত দায় ও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায়ের কারণে হানিফকে প্রথম অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বাকি দুটি অভিযোগে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
অপর তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল, বলেন আমিনুল ইসলাম।
তিনি আরও জানান, ট্রাইব্যুনাল আসামিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির অর্ধেক বাজেয়াপ্ত করার আদেশ দিয়েছেন।




