যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে বিপুল ছাত্রসহায়তা জালিয়াতি, ‘অপারেশন ঘোস্টবাস্টার্স’ অভিযান শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে ভুয়া শিক্ষার্থী তৈরি করে ফেডারেল ছাত্রসহায়তার অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একটি আন্তর্জাতিক চক্রের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে অভিযান শুরু করেছে ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষ। অভিযানটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ঘোস্টবাস্টার্স’।
তদন্তকারীদের হিসাবে, চক্রটি ২০২১ সাল থেকে সক্রিয় রয়েছে এবং এতে করদাতাদের ক্ষতি ‘কয়েক শ কোটি ডলারে’ পৌঁছাতে পারে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিচার বিভাগ এই অভিযানের ঘোষণা দেয়।
প্রথম ধাপের অভিযানের ঘোষণা দিয়ে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, সংগঠিত চক্রগুলো এমন কর্মজীবী আমেরিকানদের পরিচয় চুরি করেছে যারা কখনো কলেজে আবেদনই করেননি। সেই তথ্য ব্যবহার করে সারা দেশের প্রতিষ্ঠানে কাল্পনিক ‘ঘোস্ট স্টুডেন্ট’ ভর্তি করা হয়েছে এবং ফেডারেল আর্থিক সহায়তা সরাসরি বিদেশি অ্যাকাউন্টে পাচার করা হয়েছে।
ম্যাকডোনাল্ড বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এগুলো বিচ্ছিন্ন ভুল নয়। এটি সংগঠিত জালিয়াতি, বড় পরিসরে। কেউ কেউ কলেজের আবেদন পূরণ ও কোর্সের কাজ সম্পন্ন করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। কেউ কেউ আবার অনলাইন ক্লাসরুমে ভুয়া শিক্ষার্থীর উপস্থিতির ধারণা তৈরি করে স্কুলগুলোকে বোঝায় যে সত্যিকারের একজন মানুষ উপস্থিত আছেন।’
ব্যাপক এই অভিযান বর্তমানে এফবিআইয়ের ২৬টি ফিল্ড অফিসে ৪০টির বেশি খোলা মামলা জুড়ে বিস্তৃত। ইতিমধ্যে পাঁচজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র (ইনডিক্টমেন্ট) দেওয়া হয়েছে এবং কেনিয়ার নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত পাচার হওয়া ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি ক্রিপ্টোকারেন্সি আন্তর্জাতিকভাবে জব্দ করা হয়েছে।
ম্যাকডোনাল্ড সংবাদ সম্মেলনের প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেন, ‘জালিয়াতির এই চক্র কীভাবে কেনিয়ার মাটিতে কাজ করে তা খুঁজে বের করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে একটি দল কেনিয়ায় পাঠিয়েছি।’
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, টিউশন ও ফি পরিশোধের পর বাকি অনুদান ও ঋণের অর্থ দেশের ভেতরের ‘মানি মিউল’-দের মাধ্যমে পাচার করে বিদেশে পাঠানো হয়েছে—এর মধ্যে নাইরোবির একটি সাফারি কোম্পানিকে সামনে রেখে পরিচালিত মাধ্যমও রয়েছে। এতে কিছুই জানতে না পারা ভুক্তভোগীদের ঋণের বোঝা ও নষ্ট ঋণ-ইতিহাস নিয়ে পড়তে হয়েছে এমন শিক্ষার জন্য, যা তারা কখনো নেননি।
ম্যাকডোনাল্ড একজন আমেরিকান নাগরিকের উদাহরণ দেন—তিনি মাধ্যমিক পাস করে পরিবারের জন্য সরাসরি কাজে যোগ দিয়েছিলেন, কখনো কলেজে আবেদন করেননি, ক্লাসে ভর্তি হননি এবং ফেডারেল ছাত্রসহায়তা চাননি। কিন্তু একদিন তিনি দেখেন, শত বা হাজার মাইল দূরের একটি স্কুল থেকে তাঁর নামে একটি ঋণ রয়েছে। ম্যাকডোনাল্ড বলেন, ‘তাঁর ঋণ-ইতিহাস এখন ঝুঁকিতে এবং বিলটি তাঁর নামেই রয়েছে।’




