তাহসিফের সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলেন, হাউজ বিল্ডিং থেকে আলাদা হন: বন্ধু দ্বীপের দাবি

বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপের ডাকে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন এবং তার সঙ্গেই মধ্যরাত পর্যন্ত ছিলেন বলে দ্বীপ দাবি করেছেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় দ্বীপের সঙ্গে মোটরসাইকেল নিয়ে তাহসিফের বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য সিসিটিভি ভিডিওতে দেখা গেছে।
দ্বীপ গণমাধ্যমকে বলেন, বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাহসিফের বাইক মেরামতের জন্য তারা গ্যারেজে যান। সেখান থেকে উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের ‘কুকরুক্কু’ রেস্তোরাঁয় তারা রাতের খাবার খান।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার শেষে দুজন নিজ নিজ বাইকে করে ফিরছিলেন। উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা পর্যন্ত তারা একসঙ্গেই ছিলেন। রাত আনুমানিক ১২টার দিকে দুজন আলাদা হয়ে যান। এরপর দ্বীপ নিজে বাসায় ফিরলেও তাহসিফের বিষয়ে আর কিছু জানেন না বলে তিনি দাবি করেছেন।
কখন আলাদা হলেন—এই প্রশ্নে দ্বীপ বলেন, ‘ডিনারের পর আমরা একসঙ্গে বের হয়ে যাই। তারপরে আমি হাউজ বিল্ডিং থেকে ইউটার্ন নিয়ে বাসার দিকে চলে আসি, উনি অন্যদিকে চলে যান।’ তিনি আরও বলেন, দুজনের বাইকের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব ছিল, কারণ পাশাপাশি বাইক চালানো সবসময় সম্ভব হয় না।
আলাদা হওয়ার সময় নিয়ে দ্বীপ বলেন, সময়টা ঠিকঠাক বলা খুবই মুশকিল, তবে তা ছিল রাত প্রায় ১২টা।
একসঙ্গে থাকার সময় তাহসিফ কোনো অস্বাভাবিক কথাবার্তা বলেছিলেন বা তেমন কোনো ফোনকল পেয়েছিলেন কি না—এই প্রশ্নে দ্বীপ বলেন, তেমন কিছুই তিনি দেখতে পাননি। তবে খাওয়ার সময় তাহসিফের ফোনে একটি কল এসেছিল, যেটিকে স্বাভাবিক আলাপ বলেই তার মনে হয়েছে।
মধ্যরাতে আলাদা হওয়ার সময় তাহসিফ বাসায় যাবেন নাকি অন্য কোথাও যাবেন, তা তাকে স্পষ্ট করে বলেননি বলেও জানান দ্বীপ। তিনি বলেন, ‘উনি আসলে কোথায় যাবেন এটা আমাকে ক্লিয়ার করে বলেননি। যেহেতু উনি আমার বয়সে বড়, আমি সবসময় উনাকে জিজ্ঞেস করি না যে ভাই কোথায় যাচ্ছেন।’
দ্বীপ আরও বলেন, রাত ১টা ৩৫ মিনিটের দিকে তাহসিফ তার মাকে ‘আমি আসছি’ বলে একটি ভয়েস মেসেজ পাঠান। দ্বীপের দাবি, রাত ১টা ২০ মিনিটের মধ্যে তিনি নিজের বাসায় পৌঁছে গিয়েছিলেন; তার বাসা থেকে তাহসিফের বাসার দূরত্ব প্রায় ১৬-১৭ কিলোমিটার। অর্থাৎ মায়ের সঙ্গে তাহসিফের শেষ কথার অনেক আগেই তিনি বাসায় পৌঁছে যান বলে দ্বীপ দাবি করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তাহসিফের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ি।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে তাহসিফের লাশ তার বাসার নিচে নেওয়া হয়। এ সময় স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। স্থানীয় মসজিদে জানাজা শেষে সন্ধ্যায় উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।




