ইংল্যান্ডের নয়টি পানি কোম্পানির আটটিই পরিবেশে ব্যর্থ: যৌথ প্রতিবেদনে ৭৪টি গুরুতর দূষণ ঘটনা

ইংল্যান্ডের নয়টি বড় পানি কোম্পানির মধ্যে আটটিকেই পরিবেশগত পারফরম্যান্সে ‘খারাপ’ বা ‘উন্নতি প্রয়োজন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে একটি যৌথ নিয়ন্ত্রক প্রতিবেদন। কোটি কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের পরও কোম্পানিগুলোর পরিবেশগত অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
এনভায়রনমেন্ট এজেন্সি, ড্রিংকিং ওয়াটার ইন্সপেক্টরেট, ন্যাচারাল রিসোর্সেস ওয়েলস ও অফওয়াট—এই চার সংস্থা প্রথমবারের মতো তথ্য একত্র করে যৌথ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর পরিবেশমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা ঈগল পানি শিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের হোয়াইটহলে তলব করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবেশের উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে এমন গুরুতর দূষণ ঘটনা ঘটেছে ৭৪টি—আগের বছরের তুলনায় মাত্র একটি কম। অথচ এর মধ্যে কোটি কোটি পাউন্ড বিনিয়োগ হয়েছে, কর্তাদের বোনাসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে এবং জনগণের তীব্র প্রতিবাদও হয়েছে।
কোম্পানিগুলোর পরিবেশগত পারফরম্যান্স মূল্যায়নে মোট সম্ভাব্য ৩৬ তারকার মধ্যে পাওয়া গেছে মাত্র ১৬ তারকা, যা আগের বছরের ১৯ তারকার চেয়ে কম এবং মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরুর পর সর্বনিম্ন। সামগ্রিকভাবে ২০২৫ সালে ইংল্যান্ডে দূষণ ঘটনা ঘটেছে ২ হাজার ৬৬৬টি, যা ২০১৬ সালের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেশি। সবচেয়ে বেশি ঘটনার তালিকায় থেমস ওয়াটার শীর্ষে, এরপর অ্যাংলিয়ান ওয়াটার, ইউনাইটেড ইউটিলিটিজ, ইয়র্কশায়ার ওয়াটার ও সাউদার্ন ওয়াটার।
অ্যাঞ্জেলা ঈগল বলেন, “মানুষ অজুহাত শুনতে শুনতে বিরক্ত।” তিনি সতর্ক করেন, শিল্পে পরিবর্তন আসতে পারে: “পানি কোম্পানিগুলো বারবার জনগণকে হতাশ করেছে, আর আজকের প্রতিবেদন আরও প্রমাণ যে আমূল সংস্কার আর অপেক্ষা করতে পারে না।”
পরিবেশ, খাদ্য ও গ্রামীণবিষয়ক বিভাগ (ডেফরা) জানিয়েছে, ঈগল ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের জন্য ‘কঠোর পরিণতি’সহ ‘আরও পদক্ষেপ’ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভাগটি লিকেজ মোকাবিলা, দূষণ ঘটনা কমানো ও গ্রাহক সন্তুষ্টি বাড়ানোর মতো স্পষ্ট উন্নয়ন পদক্ষেপের তালিকা দেবে। গত বছর কার্যকর হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, এক তারকা রেটিং পাওয়া কোম্পানির নির্বাহীদের বোনাস আটকে যাবে।
পরিবেশবাদী কর্মীরা আরও শক্ত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। রিভার অ্যাকশনের প্রধান নির্বাহী জেমস ওয়ালেস বলেন, এই ব্যবস্থা শেয়ারহোল্ডার ও ঋণদাতাদের পুরস্কৃত করে, আর হেরে যায় নদী, বন্যপ্রাণী ও বিল পরিশোধকারীরা। তাঁর দাবি, সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে থাকা থেমস ওয়াটারকে অবিলম্বে বিশেষ প্রশাসনে নেওয়া হোক।
ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড কান্ট্রিসাইড লিংকের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড বেনওয়েল বলেন, নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা শুধু বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর একত্রীকরণ হলেই চলবে না; প্রকৃতি পুনরুদ্ধারের সুস্পষ্ট আইনি দায়িত্ব, শক্তিশালী পরিবেশগত লক্ষ্য এবং আইন প্রয়োগের ক্ষমতা ও সম্পদ তার থাকতে হবে। যৌথ প্রতিবেদনটি খণ্ডিত নিয়ন্ত্রক দায়িত্ব একক নজরদারি সংস্থার অধীনে আনার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাজ্য বিশ্বের মাত্র দুটি দেশের একটি যেখানে পানি সরবরাহ পুরোপুরি বেসরকারি খাতে; অন্যটি চিলি, যেখানে ১৯৮০-এর দশকে সামরিক একনায়কতন্ত্রের সময় পানি বেসরকারীকরণ করা হয়েছিল।




