আফগানিস্তানে আবার বাড়ছে পপি চাষ: এক বছরে চার গুণের বেশি বেড়ে ৪৩ হাজার ৩০০ হেক্টর, বলছে জাতিসংঘ

আফগানিস্তানে আবার পপি চাষের দিকে ঝুঁকছেন কিছু কৃষক, আর চলতি বছর এর চাষ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় (ইউএনওডিসি)। সংস্থাটি বৃহস্পতিবার এ তথ্য জানায়।
চার বছর আগে তালেবান আফিম চাষের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার ফলে দেশটির জমি থেকে পপি প্রায় পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। এখন সেই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা কমতে শুরু করেছে।
জাতিসংঘের বিশ্লেষণ করা স্যাটেলাইট চিত্র অনুযায়ী, আফগানিস্তানজুড়ে চলতি বছর পপি চাষের পরিমাণ চার গুণেরও বেশি বেড়ে প্রায় ৪৩ হাজার ৩০০ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে। কৃষকরা তালেবান কর্মকর্তাদের চোখ ফাঁকি দিতে শস্যক্ষেতের ভেতরে কিংবা মাটির দেয়ালের আড়ালে পপি গাছ লুকিয়ে রাখছেন।
তবে এই পরিমাণ এখনো ২০২১ সালের তুলনায় মাত্র এক-চতুর্থাংশ। নিষেধাজ্ঞা জারির আগের বছর ২০২১ সালে দেশটিতে পপি চাষ হয়েছিল ১ লাখ ৭৭ হাজার হেক্টর জমিতে।
অতীতে আফগানিস্তানের পপি ক্ষেতগুলো বিশ্বের মোট আফিমের প্রায় ৮০ শতাংশ উৎপাদন করত। এই আফিম মরফিন তৈরির পাশাপাশি হেরোইনের মতো অবৈধ মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত হতো।
ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, আফগানিস্তানে চলতি বছর আফিম বিক্রি থেকে প্রায় ৫২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হয়েছে। ২০২২ সাল বাদে, যখন নিষেধাজ্ঞার কারণে আফিমের দাম আকাশচুম্বী হয়েছিল, ২০১৮ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ পরিমাণ।
আফগানিস্তানে ইউএনওডিসির কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ পোলেক ওক সেরেই রয়টার্সকে বলেছেন, অনেক কৃষকের কাছে পপি চাষে ফিরে যাওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সংস্থাটির মতে, পরিস্থিতির এই পরিবর্তন ইউরোপের মতো দূরবর্তী অঞ্চলগুলোতেও হেরোইনের বাজারকে নতুন করে প্রভাবিত করতে পারে।
উত্তর আফগানিস্তানের বালখ প্রদেশের বাবা ইউসুফ গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ দাউদের (২৮) বাড়িতে এখনো কার্পেট ঝুলে আছে আর কারুকার্যময় আয়নাগুলোতে আলো প্রতিফলিত হয় — এগুলো সেই সময়ের স্মৃতি, যখন পপি ফুলের একটি মাত্র ফসল থেকেই তার পরিবারের সারা বছরের খরচ চলে যেত।
নিজের বাড়িতে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাউদ বলেন, ‘আমরা ভালোই ছিলাম। এখন আমার সন্তানরা অপুষ্টিতে ভুগছে।’ তিনি জানান, এখন তার দিন কাটে তুলা ও গমের ক্ষেতে কাজ করে, আর সেখান থেকে যে আয় হয় তা দিয়ে কোনোমতে জীবন চালানোই দায়।
দাউদ জানিয়েছেন, তিনি এখনো নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন। তবে খারাপ দিনগুলোতে তিনি পপি চাষ থেকে আগে যা আয় করতেন, তার মাত্র ৪০ ভাগের এক ভাগ আয় করতে পারেন।
তার সব প্রতিবেশী অবশ্য নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। ইউএনওডিসির তথ্য অনুযায়ী, গত বছর বালখ প্রদেশটি পপিমুক্ত ছিল, কিন্তু চলতি বছর সেখানে আবার পপি চাষ হচ্ছে। তালেবানের কড়া নজরদারির কারণে খুব কম কৃষকই তা স্বীকার করার সাহস পান।
তালেবান এই প্রতিবেদনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, প্রকৃত চাষাবাদের পরিমাণ জাতিসংঘের প্রাক্কলনের প্রায় অর্ধেক এবং পপি চাষ নির্মূলের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তালেবান পরিচালিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।




