উত্তরখানে তুরাগে মিলল সাবেক বিমান কর্মকর্তা তাহসিফের মরদেহ, বন্ধু দ্বীপ জানালেন শেষ রাতের বিবরণ

রাজধানীর উত্তরখানে তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার পরদিন তাঁর মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠে।
তাহসিফের বয়স ছিল ২৮ বছর। তাঁর হাতে ঘড়ি ছিল এবং পকেটে আইফোন পাওয়া যায়, ফলে পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশকে খুব বেশি বেগ পেতে হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
বুধবার ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে খবর পেয়ে টঙ্গী নৌপুলিশ উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে।
এর আগের দিন মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি তাহসিফ। বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর তাঁর মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে মৃত্যুর কারণ এখনো জানা যায়নি।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দ্বীপ নামের এক বন্ধু বাসায় এসে তাহসিফকে ডাকেন। মাকে নিচে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে আসার কথা জানিয়ে বের হয়েছিলেন তাহসিফ।
বাবার সন্দেহ, তাহসিফকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। তবে কারা বা কী কারণে এমন ঘটনা ঘটাতে পারে, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, তাহসিফ মাঝে মাঝে রাজাবাড়ী ঘাট এলাকায় যেতেন।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন তাহসিফের সেই বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সদ্য স্নাতক শেষ করা দ্বীপের বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এবং তাহসিফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় প্রায় ছয় বছরের।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৭ অক্টোবর দুজনে তাহসিফের নষ্ট মোটরসাইকেলটি প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট চেষ্টা করে চালু করেন, পরে ওয়ার্কশপে নিয়ে মেরামত ও তেল পরিবর্তন করান। এরপর উত্তরার রুআপ শপিং কমপ্লেক্সের একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খান তাঁরা।
খাবার শেষে দুজন আলাদা মোটরসাইকেলে বের হন এবং উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকায় রাত ১২টার দিকে আলাদা হয়ে যান বলে দ্বীপ জানিয়েছেন। বাসায় পৌঁছে তিনি তাহসিফকে ফোন করে মোবাইল বন্ধ পান এবং পরদিন সকালেও যোগাযোগ করতে পারেননি।
দ্বীপ বলেছেন, সেদিন তাহসিফের আচরণে অস্বাভাবিক কিছু তিনি দেখেননি এবং এখন পর্যন্ত কাউকে সন্দেহ করার মতো অবকাশ তাঁর নেই। তাঁর ভাষ্য, অন্য সবার মতো তিনিও একই রহস্যের মধ্যে আছেন।
ঢাকা জেলা নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, তাহসিফের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে সুরতহাল প্রতিবেদনে নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়া ও পেট ফোলা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে। ময়নাতদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার ফল পেলে বিস্তারিত জানা যাবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির ফরেনসিক দল। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইও তথ্য সংগ্রহে যুক্ত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নৌপুলিশ সদর দপ্তরের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে নৌপুলিশ ৪৩০টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। এর মধ্যে ১১৬টির পরিচয় পাওয়া যায়নি এবং আরও ১০৪ জনের মৃত্যুর কারণ বের করা যায়নি। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে ঢাকা অঞ্চলে ৭৮টি, বরিশালে ৬৩টি এবং নারায়ণগঞ্জে ৬০টি ছিল।




