ভৈরবে ইঞ্জিন ছাড়াই প্রায় এক কিলোমিটার ছুটল কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের বগি: গার্ডের জরুরি ব্রেকে রক্ষা, ছাড়তে দেরি দুই ঘণ্টা

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের বগিগুলো ইঞ্জিন ছাড়াই পেছনের দিকে প্রায় এক কিলোমিটার পথ চলে গেছে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটি হঠাৎ এভাবে চলতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই ঘটনা ঘটে। পরে একজন গার্ড ট্রেনে উঠে জরুরি ব্রেক কষলে সেটি থামে।
জানা গেছে, ট্রেনটি বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার পথে যাত্রা করে। ভৈরব জংশনে পৌঁছানোর পর ইঞ্জিন পরিবর্তনের জন্য সেটি খুলে নেওয়া হয়।
কিন্তু কিশোরগঞ্জের দিকে যাওয়া লাইনটি ঢালু হওয়ায় ইঞ্জিন খুলতেই বগিগুলো পেছনের দিকে গড়াতে শুরু করে।
ট্রেনের গার্ড ওমর আলী বলেন, ‘ট্রেনটি ভৈরবে পৌঁছায় সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে। ইঞ্জিন কেটে আউটার থেকে ঘুরে আসার কথা ছিল। কিন্তু লাইন ঢালু থাকায় বগিগুলো পেছনের দিকে চলে যায়।’ তিনি তাৎক্ষণিক ট্রেনে উঠে ইমারজেন্সি ব্রেক করলে ট্রেনটি থামে।
গার্ড ওমর আলীর ভাষ্য, যাত্রীরা কিছুটা আতঙ্কিত হলেও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
ট্রেনে থাকা এক যাত্রী বলেন, ‘কিশোরগঞ্জ থেকে ৪টায় রওনা দিয়েছিলাম। ভৈরবে এসে দেখি ট্রেনটি পেছনের দিকে চলছে। প্রথমে ভেবেছিলাম ইঞ্জিন দিয়েই চলছে, পরে দেখি ইঞ্জিন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলছে। আমিসহ অনেকেই চরম ভয়ে ছিলাম।’
আরেক যাত্রী জানান, রাতে তাঁর ভাইয়ের বিদেশ যাওয়ার কথা; ট্রেনে আরও অনেক বিদেশগামী যাত্রী ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ায় অনেকের বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করেন।
নরসিংদীর যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভৈরবে এসে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছি। যাত্রীরা সবাই চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা চাই রেলপথে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো হোক।’
এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, ‘লাইন ডাউন থাকায় এমনটা হয়েছে।’ পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রামগামী চারটি ট্রেনকে লাইন দিতে গিয়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ছাড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে বলেও তিনি জানান।




