ঢাকার মণিপুরিপাড়ায় বাবাকে ভিডিও কলে বাঁচার আকুতির পর গৃহবধূ বর্ষার মৃত্যু, যৌতুকের অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মণিপুরিপাড়ায় জুমরাতুন নেছা বর্ষা (২৪) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীর নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার কাছে ভিডিও কল করার পর তাঁর এই রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে তেজগাঁও জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান এই তথ্য জানান। তিনি জানান, এ ঘটনায় নিহতের স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঢাকার তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার মণিপুরিপাড়ার একটি বাসা থেকে বর্ষার মরদেহ উদ্ধার হয়।
জানা গেছে, বর্ষা ও তাঁর স্বামী প্রায় এক বছর আগে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। বর্ষা ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার দিন রাত ১২টার দিকে বর্ষা তাঁর বাবা শেখ মনোয়ার হোসেনকে ভিডিও কল করেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁকে নির্যাতন করা হচ্ছে এবং তাঁকে যেন দ্রুত ওই বাসা থেকে উদ্ধার করে বাবার বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়।
ভিডিও কলেই বর্ষা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত না নিয়ে গেলে তাঁকে মেরে ফেলা হতে পারে। কথা বলার একপর্যায়ে হঠাৎ করেই ভিডিও কলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
উদ্বিগ্ন হয়ে বর্ষার মা-বাবা তাৎক্ষণিকভাবে মেয়ের বাসায় রওনা হন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সেখানে পৌঁছে তাঁরা বাসার সামনে একটি অ্যাম্বুলেন্স দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন।
বর্ষাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান জানান, বর্ষার পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং যৌতুকের লোভেই তাঁর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে।
অভিযোগের ভিত্তিতে তেজগাঁও থানা পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এবং এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত শুরু করেছে।




