বেনজীর আহমেদের দুর্নীতি মামলায় ৩৪ সাক্ষীর জবানবন্দি শেষ, পরবর্তী সাক্ষ্য ৫ নভেম্বর

অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের বড় অংশ শেষ হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আরও ১২ জন সাক্ষ্য দেওয়ায় মামলার ৩৬ সাক্ষীর মধ্যে ৩৪ জনের জবানবন্দি গ্রহণ সম্পন্ন হলো।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে বুধবার এই ১২ জন জবানবন্দি দেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম সাক্ষ্য গ্রহণের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামি পলাতক থাকায় তাঁর পক্ষে সাক্ষীদের জেরা করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জবানবন্দি শেষে আদালত আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করেছেন।
বুধবার সাক্ষ্য দেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন কমিউনিটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের এফএভিপি মোহাম্মদ শাহরিয়ার চৌধুরী, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান এবং প্রাইম ব্যাংকের এসইভিপি ও আইসিডি প্রধান মোহাম্মদ আব্দুর রহমান।
তালিকায় আরও ছিলেন এনআরবি ব্যাংকের মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধ বিভাগের এসএডিপি উদয় সংকর চাকী, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের কর্মকর্তা মো. ফয়সাল ভূঞা পিয়াস এবং দুদকের অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলাম।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়সাল কবির, গণপূর্ত ই/এম বিভাগের স্টাফ অফিসার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ তরিকুল আলম, একই বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাজেদুল ইসলাম এবং ই/এম উপবিভাগের উপপ্রকৌশলী নাহিদ হাসান লিজনও বুধবার সাক্ষ্য দিয়েছেন।
ঢাকা বোর্ড ক্লাবের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান তুষার এবং এসপিবিএনের ডিআইজি ডা. শোয়েব রিয়াজ আলমও এদিনের সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন।
মামলার ধারাবাহিকতায় গত ৮ মার্চ একই আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ৩ মে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে গত বছরের ৩০ নভেম্বর জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর আহমেদ সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দিয়েছিলেন। তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে ১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার কথা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। বৈধ আয়ের উৎস হিসেবে ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা পাওয়া গেছে এবং ব্যয় বাদে নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
সেই হিসাব অনুযায়ী বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদক অভিযোগ করেছে। দুদকের ভাষ্য, এসব অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করে তিনি বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনী প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেন।



