ছেলের মাকে হত্যার অভিযোগে দ্বৈত নাগরিককে এল সালভাদরে প্রত্যর্পণ যুক্তরাষ্ট্রের, প্রথমবার নিজ নাগরিককে হস্তান্তর

ক্যালিফোর্নিয়ার দ্বৈত নাগরিক মাইকেল আলেহান্দ্রো কাস্তিয়ো মুর্গাকে (২৭) এল সালভাদরে প্রত্যর্পণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে) এ তথ্য জানিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের একটি হত্যাকাণ্ডে গুরুতর নারীহত্যা ও অসম্পূর্ণ হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
বুধবার তাঁকে সালভাদরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। কাস্তিয়ো মুর্গা ক্যালিফোর্নিয়ার বিউমন্টের বাসিন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও এল সালভাদর — দুই দেশেরই নাগরিক।
বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এল সালভাদরে সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই প্রথমবার কোনো মার্কিন নাগরিককে সে দেশের কাছে হস্তান্তর করল।
সালভাদরীয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ২০১৯ সালের ৩১ জানুয়ারি কাস্তিয়ো মুর্গা মেলভি ফের্নান্দা নাহেরা কেসাদাকে (২৩) ও তাঁদের ছেলেকে তাঁর মায়ের বাড়ি থেকে নিয়ে যান — পরিবার হিসেবে একসঙ্গে থাকা শুরু করবেন, এমন কথা বলে। নাহেরা কেসাদা ছিলেন তাঁর ছেলের মা।
তদন্তকারীদের অভিযোগ, তিনি বরং নাহেরা কেসাদাকে হত্যা করেন এবং তাঁদের ছেলেকে তাঁর মরদেহের কাছে ফেলে রেখে যান। পরদিন একটি মহাসড়কের কাছে তাঁর মরদেহ পাওয়া যায়।
ময়নাতদন্তে জানা যায়, তিনি ঘাড়ে ও শরীরের অন্য জায়গায় প্লাস্টিকের ছুরি দিয়ে করা কাটা ক্ষত থেকে তীব্র রক্তক্ষরণে মারা যান, বিচার বিভাগ জানিয়েছে।
কয়েক দিন পর খেতমজুররা দুই বছরের কম বয়সী ছেলেটিকে তাঁর মায়ের মরদেহ পাওয়া জায়গার কাছের একটি দুর্গম এলাকায় খুঁজে পান। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি তখন মারাত্মক পানিশূন্য ও অনাহারে ছিল, তার মুখে কাটা দাগ, পোকামাকড়ের কামড় ও নির্যাতনের চিহ্ন ছিল।
তদন্তকারীরা সেলফোনের অবস্থানের তথ্য ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনার মাধ্যমে কাস্তিয়ো মুর্গাকে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি তাঁর বান্ধবীকে নিজের মুখ ও ঘাড়ে রক্তের দাগসহ একটি ছবিও পাঠিয়েছিলেন।
কাস্তিয়ো মুর্গার দাদি ও এক আইনজীবীর বিরুদ্ধেও প্রমাণ গোপনে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা দুজন লোককে দিয়ে পানি, গাড়ির শ্যাম্পু ও ভিনেগার ব্যবহার করে তাঁর গাড়ির ভেতর ও বাইরে থেকে রক্ত পরিষ্কার করান, যদিও সব রক্ত পুরোপুরি দূর করা যায়নি।
অভিযোগ অনুযায়ী, কাস্তিয়ো মুর্গা ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারির দিকে দাদি ও আইনজীবীর সহায়তায় গুয়াতেমালায় পালিয়ে যান এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন।
এল সালভাদরের প্রত্যর্পণের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের অক্টোবরে মার্কিন মার্শালরা তাঁকে গ্রেপ্তার করেন। তিনি ফেডারেল আদালতে প্রত্যর্পণকে চ্যালেঞ্জ করেন, কিন্তু ২০২৫ সালের নভেম্বরে একজন বিচারক তাঁর আবেদন খারিজ করেন এবং ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে হস্তান্তর স্থগিতের পরবর্তী অনুরোধও প্রত্যাখ্যান করা হয়।
শেষ পর্যন্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর হস্তান্তরের অনুমোদন দেন। সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার মার্কিন মার্শাল সার্ভিস এই মামলায় সহায়তা করে এবং তাঁকে পরিবহন করে সালভাদরীয় কর্তৃপক্ষের হেফাজতে তুলে দেয়।



