অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়ায় অর্ধেকের বেশি আইনজীবী এখন এআই ব্যবহার করেন, কিন্তু ফি কমিয়েছেন মাত্র এক-চতুর্থাংশ

অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের অর্ধেকের বেশি আইনজীবী এখন তাঁদের পেশাগত কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করছেন—নতুন এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে দক্ষতা বাড়লেও মাত্র এক-চতুর্থাংশের কিছু বেশি আইনজীবী বলেছেন, এর ফলে তাঁরা মক্কেলদের ফি কমিয়েছেন।
ভিক্টোরিয়ান লিগ্যাল সার্ভিসেস বোর্ড অ্যান্ড কমিশনারের আইনি সেবা গবেষণা কেন্দ্র রাজ্যের ২ হাজার ২২১ জন আইনজীবীর ওপর ২০২৬ সালের এই জরিপ চালায়। জরিপে দেখা গেছে, গত এক বছরে আইন পেশায় এআই ব্যবহারকারীর হার ৩৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
২০২৫ সালের প্রতিবেদনে এআই ব্যবহার সবচেয়ে বেশি ছিল ৩০ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে; ২০২৬ সালে সেই বয়স-ব্যবধান অনেকটাই মুছে গেছে। তবে ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ব্যবহার এখনো কম।
খাতভেদে ব্যবহারের চিত্রে বড় পার্থক্য রয়েছে। বাণিজ্য আইন চর্চায় এআই ব্যবহারের হার ৮৫ শতাংশ, ব্যাংকিং ও অর্থায়নে ৭৮ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগ খাতে ৭৮ শতাংশ। অন্যদিকে ফৌজদারি আইনে এই হার মাত্র ২৯ শতাংশ, পারিবারিক আইনে ৪৫ শতাংশ এবং প্রশাসনিক আইনে ৪৬ শতাংশ।
আইনি সেবার জন্য বিশেষভাবে তৈরি এআই টুল থাকলেও ৭৯ শতাংশ আইনজীবী জানিয়েছেন, তাঁরা চ্যাটজিপিটি, ক্লদ, জেমিনি বা কোপাইলটের মতো সাধারণ চ্যাটবট ব্যবহার করেন। শুধু আইন-নির্দিষ্ট টুল ব্যবহার করেন ২২ শতাংশ উত্তরদাতা।
এআই ব্যবহার বাড়লেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা ফি কমায়নি। জরিপে মাত্র ২৬ শতাংশ আইনজীবী বলেছেন, এআই ব্যবহারের ফলে মক্কেলের ফি কমেছে। ব্যবসায়িক মক্কেলদের ক্ষেত্রে এই হার ৩৪ শতাংশ, ব্যক্তিগত ফি-প্রদানকারী মক্কেলদের ক্ষেত্রে ২৩ শতাংশ।
কিছু আইনজীবী (১৮ শতাংশ) জানিয়েছেন, এআইয়ের কারণে তাঁরা এমন কাজ নিতে পারছেন, যা আগে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হতো না।
প্রতিবেদনের সহ-লেখক ও প্রধান গবেষক ড. জর্জি রিখনার বলেন, করপোরেট ও বড় ফার্মগুলোতে ফি কমার কারণ হলো সেখানকার মক্কেলরা বারবার আইনি সেবা নেন। তাঁর ভাষায়, এসব মক্কেলের আইনি সক্ষমতা বেশি, তাঁরা নিজেরাও কাজে এআই ব্যবহার করেন, ফলে কম দামের পক্ষে যুক্তি দেওয়ার সক্ষমতা তাঁদের বেশি—যা কমিউনিটি আইনি সেবা খাতে ততটা দেখা যায় না।
রিখনার বলেন, এআই ব্যবহারে দক্ষতা বৃদ্ধি প্রত্যাশার মতো হয়নি। ২০২৫ সালের জরিপে ৮৯ শতাংশ আইনজীবী বলেছিলেন, তাঁরা এআইয়ের তৈরি তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের পদক্ষেপ নেন—এই যাচাইয়ের কাজই হয়তো দক্ষতার সুফল অনেকটা খেয়ে ফেলেছে।
জরিপে আরও দেখা গেছে, মক্কেলদের নিজে নিজে এআই ব্যবহার বাড়ায় আইনজীবীদের কাজ বরং বেড়েছে। ৪৬ শতাংশ আইনজীবী জানিয়েছেন, মক্কেলরা ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়ে আসছেন; ৪১ শতাংশ বলেছেন, মক্কেলদের এআই-তৈরি নথি সংশোধন করতে হচ্ছে। প্রায় অর্ধেক আইনজীবীর মতে মক্কেলের এআই ব্যবহারে সময় ও শ্রম বেড়েছে; মাত্র ১৯ শতাংশ বলেছেন সময় কমেছে।
রিখনারের ভাষায়, মক্কেলরা আইনি সমস্যা সম্পর্কে ভালো ধারণা নিয়ে আসার চেয়ে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য নিয়েই বেশি আসছেন। মক্কেলদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে আরও গবেষণা দরকার বলেও তিনি জানান।
২০২৩ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়াজুড়ে আদালত ও আইনজীবী নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আইনজীবী ও সাধারণ মানুষের এআই ব্যবহারের উত্থান সামলাতে ব্যস্ত। গত বছর ভিক্টোরিয়ার এক আইনজীবী দেশে প্রথম ভুয়া উদ্ধৃতির জন্য শাস্তি পান—প্রধান আইনজীবী হিসেবে চর্চার অধিকার হারান তিনি। ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া ও নিউ সাউথ ওয়েলসেও একই ধরনের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
এপ্রিলে ফেডারেল আদালত জেনারেটিভ এআই ব্যবহার নিয়ে নতুন নিয়ম জারি করেছে। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি স্টিফেন গ্যাগেলার গত বছর বলেছিলেন, আইনি মামলায় এআই-তৈরি বিষয়বস্তুর ব্যবহার ‘অস্থিতিশীল পর্যায়ে’ পৌঁছেছে।




