‘ম্যানোস্ফিয়ার’ ও অনলাইন নারীবিদ্বেষকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখার আহ্বান ব্রিটিশ বিশেষজ্ঞদের

‘ম্যানোস্ফিয়ার’ ও অনলাইন নারীবিদ্বেষকে স্থূলতা বা ধূমপানের মতোই জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে সরকারের বিবেচনা করা উচিত বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ছেলেদের জন্য ‘আরও ভালো কিছু দেওয়ার’ প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিতে হবে।
চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেটে লেখা একটি নতুন প্রতিবেদনের লেখকরা বলেছেন, তামাক ব্যবহার ও অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবারের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য প্রতিক্রিয়ার মতোই সরকার, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোকে নিয়ে একটি সমন্বিত প্রতিক্রিয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেদনে ম্যানোস্ফিয়ারকে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে ‘পুরুষত্ব, নারীবিদ্বেষ ও পুরুষের ভুক্তভোগী হওয়া নিয়ে অভিন্ন বিশ্বাসে একতাবদ্ধ অনলাইন কমিউনিটিগুলোর একটি বিস্তৃত বাণিজ্যিক বাস্তুতন্ত্র ও শিথিল সমষ্টি’ হিসেবে।
লেখকরা লিখেছেন, ‘ম্যানোস্ফিয়ারে পুরুষদের সমস্যাগুলোকে কাঠামোগত পরিস্থিতির বদলে নারীবাদের ফল হিসেবে তুলে ধরা হয়, এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও কর্মদক্ষতাকেন্দ্রিক পুরুষত্বকে স্বাভাবিক ও জোরদার করে এমন পণ্য ও পেইড কনটেন্টের মাধ্যমে পুরুষ পরিচয়কে পণ্যে পরিণত করা হয়।’
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ম্যানোস্ফিয়ার একটি অত্যন্ত লাভজনক অনলাইন শিল্পে পরিণত হয়েছে, যা ‘নারীবিদ্বেষ ও ক্ষুব্ধ পুরুষত্বের সবচেয়ে চরম প্রকাশগুলো’ প্রচার করে অর্থ আয় করে।
প্রতিবেদনের সহলেখক ও সামাজিক ন্যায়বিচার থিংকট্যাংক গ্লোবাল ৫০/৫০-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক কেন্ট বুস বলেন, ‘এটি একটি ব্যবসায়িক মডেল, প্রান্তিক কোনো বিষয় নয়। ক্ষোভ ও অভিযোগ ব্যবসার জন্য ভালো, তাই ব্যবস্থাটি সবচেয়ে চরম কনটেন্টকেই পুরস্কৃত করে। তামাকের ক্ষেত্রে যে কৌশল কাজ করেছে, সেটাই এখানে আশা করুন: ব্যক্তিকে দোষারোপ করা এবং নিয়ন্ত্রণকে স্বাধীনতার ওপর আক্রমণ বলা। বাণিজ্যিক ক্ষতির জন্য জনস্বাস্থ্যের কাছে পরীক্ষিত হাতিয়ার আছে, আমাদের তা ব্যবহার করা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে ও পুরুষরা সমস্যা নয়। সমস্যা হলো সেই পরিস্থিতি, যা তাদের বিচ্ছিন্ন ও নিরাপদ ভবিষ্যৎহীন করে রাখে, এবং সেই কোম্পানিগুলো, যারা তাদের রাগ ও নিরাপত্তাহীনতা থেকে লাভ করে।’
লেখকরা বিশ্বজুড়ে ছেলেদের শিক্ষা থেকে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতা, একাকীত্ব, অর্থ নিয়ে দুশ্চিন্তা ও সামাজিক বর্জনের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন। তাঁদের মতে, এসব সমস্যা তরুণ পুরুষদের নিজেদের অন্তর্ভুক্তির অনুভূতি খুঁজতে বাধ্য করতে পারে এবং তাদের এমন অনলাইন কমিউনিটির প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে, যারা তাদের কষ্টের সহজ ব্যাখ্যা দেয় এবং প্রায়ই নারী ও নারীবাদকে দোষারোপ করতে উৎসাহিত করে।
প্রতিবেদনের আরেক লেখক অধ্যাপক সারাহ হকস বলেন, ‘ম্যানোস্ফিয়ার ছেলে ও তরুণ পুরুষদের অন্তর্ভুক্তি, পরিচয় এবং জীবন কেন কঠিন মনে হয় তার একটি ব্যাখ্যা দেয়।’
তিনি বলেন, ‘সেই চাহিদাগুলো বাস্তব। শুধু ম্যানোস্ফিয়ার সরিয়ে দিয়ে, তার জায়গায় বিশ্বাসযোগ্য কিছু না দিলে সেই প্রতিক্রিয়া ব্যর্থ হবে। ছেলেদের কী এড়িয়ে চলতে হবে শুধু তা বললেই হবে না, তাদের আরও ভালো কিছু দিতে হবে।’
সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চ অন মেন অ্যান্ড বয়েজের নীতি ও যোগাযোগ পরিচালক মার্ক ব্রুকস প্রতিবেদনের এই অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন যে এটি একটি জনস্বাস্থ্য সমস্যা এবং পুরুষ, ছেলে, নারী ও মেয়েরা সবাই এই কনটেন্টের ভুক্তভোগী।




