শাড়ি নিয়ে দুই মামলার জটে তানজিন তিশা: একটিতে সিআইডির অধিকতর তদন্ত, আরেকটিতে হুমকির অভিযোগ

ছোটপর্দার অভিনেত্রী তানজিন তিশা শাড়ি নিয়ে দুটি আলাদা মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন। একটি মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদনের পর আদালত অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি)। অন্য ঘটনায় আগের মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হয়েছে।
তানজিন তিশা বলেছেন, শোবিজে তার আসা হুট করেই। তিনি বলেন, একদমই হুট করে তার শোবিজে আসা, নিজেও জানতেন না এখানে কাজ করবেন। ছোটবেলায় নাচ তার ভীষণ পছন্দ ছিল, আর এর মাধ্যমেই এখানে আসা। এরপর মডেলিং করা, অভিনয় করা। দেখতে দেখতে কীভাবে যেন এতটা বছর কেটে গেল, বুঝতেই পারেননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
ক্যারিয়ারের শুরুর সময়টা সহজ ছিল না বলেও জানিয়েছেন তিনি। তিশা বলেন, যখন তিনি কাজ করতে শুরু করেন, তখনো জানতেন না অভিনয়টাই করবেন। একটা সময় শুনেছেন, তানজিন তিশা অভিনয় পারে না। টিকে থাকার এই লড়াই তার জন্য সহজ ছিল না। সে অর্থে কারো সাহায্য পাননি। তারপরও নিজের মতো কাজ করে গিয়েছেন। এক যুগের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে তিনি অনেক নাটক ও টেলিফিল্মে অভিনয় করেছেন।
শাড়ি নিয়ে বিতর্কের শুরু গত বছরের অক্টোবরে। অনলাইন পোশাক বিক্রির প্রতিষ্ঠান অ্যাপোনিয়ার স্বত্বাধিকারী বিলকিস ওয়াজিরের অভিযোগ, ২৮ হাজার ৮০০ টাকা দামের একটি জামদানি শাড়ি প্রচারের শর্তে তিশাকে দেওয়া হলেও তিনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রচারণা করেননি এবং শাড়ির দামও পরিশোধ করেননি।
শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তানজিন তিশা। তার দাবি, শাড়িটি তাকে উপহার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় করা প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলাটির আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
এর বাইরে ৭৫ হাজার টাকা দামের আরেকটি শাড়ি নিয়ে তিশার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন নারী উদ্যোক্তা ও ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। তার অভিযোগ, ২০২৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর একটি অনুষ্ঠানে পরার জন্য তিশা তার কাছ থেকে শাড়িটি নিয়েছিলেন এবং পরের দিন ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি।
সানায়া চৌধুরীর অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শাড়িটি ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাকে গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এই মামলায় পিবিআই তদন্ত শেষে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছিল।
তবে পিবিআইয়ের ওই প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বাদীপক্ষ নারাজি আবেদন করে। এরপর ২৫ অক্টোবর আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন। আদালত আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এর এক দিন পর, ২৬ অক্টোবর, আগের মামলাটি তুলে নিতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন সানায়া চৌধুরী। বাদীপক্ষের অভিযোগ, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের মাধ্যমে তাকে ভয় দেখানো হয়েছে এবং মামলা প্রত্যাহার না করলে বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছে।
হুমকির অভিযোগে মামলা হওয়ার পর ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন তানজিন তিশা। পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তার একটি বক্তব্যের রেকর্ড থেকে নিজেদের সুবিধামতো অংশ কেটে মূল কথার অর্থ বদলে দেওয়া হয়েছে। এরপর সেটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে তার সম্মানহানির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
ওই পোস্টে একগুচ্ছ প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে তিশা জানতে চেয়েছেন, এত বড় একটা পরিকল্পনা কেন, একজন মানুষের এত বছরের সম্মান, ক্যারিয়ার আর অর্জন ধ্বংস করে দেওয়ার এমন প্রচেষ্টা কেন এবং এর পেছনে কারা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাড়ি নিয়ে বিপত্তিতে থাকলেও তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আইনিভাবেই সব জট খুলে যাক, এমন প্রত্যাশা তার।




