এআইয়ের আসল সংকট বিদ্যুৎ: পারমাণবিক চুক্তির বিল গুনতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহককেও
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চালাতে ডেটা সেন্টারগুলোর বিদ্যুতের চাহিদা এতটাই বেড়েছে যে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পারমাণবিক বিদ্যুতের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু সেই বিদ্যুতের খরচ শেষ পর্যন্ত কে দেবে—সিলিকন ভ্যালির বাইরেও সেই প্রশ্ন বড় হয়ে উঠেছে বলে এই বিশ্লেষণে বলা হয়েছে।
এক সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বের তিনটি বৃহত্তম ক্লাউড কম্পিউটিং প্রতিষ্ঠানের দুটি পারমাণবিক বিদ্যুতের জন্য ২০ বছরের চুক্তি সই করেছে। অ্যামাজন মেরিল্যান্ডে কনস্টেলেশনের ক্যালভার্ট ক্লিফস কেন্দ্র থেকে ৬৯০ মেগাওয়াট নিয়েছে, যার মধ্যে ২০৩০ থেকে ২০৩২ সালের মধ্যে আরও ১৯০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।
গুগল এমন একটি চুক্তি সই করেছে যা যুক্তরাষ্ট্রে আরও ৮৯০ মেগাওয়াট পারমাণবিক সক্ষমতা যোগ করবে। কনস্টেলেশন ইলিনয়, পেনসিলভানিয়া ও নিউ জার্সিতে ১১টি রিঅ্যাক্টর আধুনিকায়নে ৪৩০ কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগ করছে। তবে কোনও চুক্তিতেই নতুন রিঅ্যাক্টর নির্মাণের কথা নেই; বরং বিদ্যমান রিঅ্যাক্টরগুলো থেকে আরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অর্থ দেওয়া হচ্ছে।
কয়েক বছর আগেও এমন চুক্তি অকল্পনীয় মনে হতো। ১৯৭৯ সালে থ্রি মাইল আইল্যান্ড, ১৯৮৬ সালে চেরনোবিল ও ২০১১ সালে ফুকুশিমা দুর্ঘটনার পর পারমাণবিক শক্তি জনপ্রিয়তা হারিয়েছিল। জার্মানি পারমাণবিক শক্তি পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছে, আর ফুকুশিমার পর জাপান তার রিঅ্যাক্টরগুলো বন্ধ করে দিলেও পরে আবার চালু করতে শুরু করেছে।
আজ থ্রি মাইল আইল্যান্ডের একটি অক্ষত রিঅ্যাক্টর আবার চালু করা হচ্ছে, যার বিদ্যুৎ ২০ বছরের জন্য কেনার চুক্তি করেছে মাইক্রোসফট। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ বন্ধ হয়ে যাওয়া তিনটি কেন্দ্র পুনরায় চালু করতে ৪৪০ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ দিচ্ছে, যার লক্ষ্য প্রায় ২ দশমিক ২৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ফিরিয়ে আনা।
মিশিগানের প্যালিসেডস কেন্দ্রটি ২০২২ সালে বন্ধ হয়েছিল; চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে এটি আবার বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করবে। সফল হলে ডিকমিশনিং পর্যায়ে যাওয়ার পর পুনরায় চালু হওয়া প্রথম মার্কিন বাণিজ্যিক পারমাণবিক কেন্দ্র হবে এটি।
গত এক দশকে এআইয়ের জ্বালানি সমস্যার শিল্পখাতের উত্তর ছিল দক্ষতা—ভালো চিপ, ছোট মডেল ও উন্নত শীতলীকরণ। আধুনিক এআই চিপ প্রতি একক বিদ্যুতে আগের চেয়ে বেশি হিসাব করতে পারে। কিন্তু সেই দক্ষতা সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদা কমায়নি; প্রতিটি অগ্রগতি দ্রুত আরও বড় কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিপসিক যখন অনেক কম কম্পিউটিং খরচে প্রতিযোগিতামূলক মডেল প্রশিক্ষণ সম্ভব বলে দেখাল, তখনও শিল্পখাতের ব্যয় কমেনি। বরং গবেষণাগারগুলো আরও প্রশিক্ষণ, দীর্ঘক্ষণ যুক্তি দেওয়া মডেল, পেছনে অবিরাম কাজ করা এজেন্ট ও ভিডিও তৈরির পরিকল্পনা চালিয়ে গেছে।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, দক্ষতার উন্নতি অব্যাহত থাকলেও বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাবে।
তবে অর্থ দিলেই দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হয় না। একটি নতুন বড় রিঅ্যাক্টর সিদ্ধান্ত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যন্ত এক দশক বা তার বেশি সময় নেয়। ছোট মডুলার রিঅ্যাক্টরে বিনিয়োগ হলেও সেগুলোর অনেক প্রকল্প ২০৩০-এর দশকের শুরুর আগে বিদ্যুৎ দেবে বলে আশা করা যায় না। ফলে দ্রুততম বিকল্প—পুনরায় চালু ও আধুনিকায়ন—মানেও ২০২৭, ২০২৮ বা ২০২৯ সাল।
এই চুক্তিগুলোর বেশির ভাগই পিজেএম গ্রিডের মধ্যে, যা ১৩টি মার্কিন অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রায় ৬ কোটি ৭০ লাখ মানুষকে সেবা দেয়। পিজেএম ভবিষ্যৎ চাহিদার জন্য সক্ষমতা নিলাম করে, যার খরচ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে আদায় হয়। টানা তিনটি নিলামে সক্ষমতার দাম নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছেছে।
গ্রিড পরিচালকের স্বাধীন বাজার পর্যবেক্ষকের হিসাবে, সর্বশেষ চারটি নিলামে ডেটা সেন্টারের চাহিদা প্রায় ২ হাজার ৯৪০ কোটি ডলার সক্ষমতা খরচ যোগ করেছে। সর্বশেষ নিলামেই এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৩০ কোটি ডলার, যার মধ্যে এমন স্থাপনার পূর্বাভাসও রয়েছে যেগুলো এখনও নির্মিত হয়নি। ন্যাচারাল রিসোর্সেস ডিফেন্স কাউন্সিলের হিসাবে, বর্তমান ধারা চললে ২০২৮ সালের মধ্যে পিজেএম এলাকার একটি সাধারণ পরিবারকে মাসে অতিরিক্ত ৭০ ডলার বিদ্যুৎ খরচ গুনতে হতে পারে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ভার্জিনিয়া ডেটা সেন্টারের জন্য আলাদা বিদ্যুৎ মূল্যশ্রেণি তৈরি করেছে, ওহাইও ন্যূনতম বিলিংয়ের শর্ত চালু করেছে এবং ইলিনয়ে আইন নিয়ে বিতর্ক চলছে। গুগলের চুক্তির লক্ষ্য এই আপত্তি মোকাবিলা করা—বড় নতুন গ্রাহক বিদ্যমান সরবরাহ নিয়ে প্রতিযোগিতা না করে অতিরিক্ত উৎপাদনক্ষমতা যোগ করবে। তবে এই ব্যবস্থা স্বেচ্ছামূলক; ২০২৬ সালের অক্টোবরে মার্কিন ফেডারেল নিয়ন্ত্রকেরা পিজেএমের সেই প্রস্তাবের বেশির ভাগই প্রত্যাখ্যান করেছেন, যেখানে বড় নতুন গ্রাহকদের নিজস্ব উৎপাদনক্ষমতার ব্যবস্থা করতে হতো।



