সাপের ছোবল খেয়েও জ্যান্ত সাপ ধরে হাসপাতালে ভালুকার আবদুল কাদের, পরীক্ষায় জানা গেল সাপটি বিষধর নয়

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের (৫০) সাপের ছোবল খাওয়ার পর নিজেই সাপটিকে জ্যান্ত ধরে হাসপাতালে গেছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত পৌনে ৯টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
আবদুল কাদেরের ভাষ্য, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আঙ্গারগাড়া বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি সাপ তাঁকে ছোবল দেয়। এরপর তিনি মোবাইলের আলো জ্বেলে সাপটিকে খুঁজে বের করেন এবং একপর্যায়ে সেটিকে ধরে ফেলেন।
পরে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাঁদের সহযোগিতায় সাপটিকে একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরেন আবদুল কাদের। এরপর তিনি দ্রুত সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলে আসেন। আঙ্গারগাড়া এলাকাটি সখীপুরের কাছাকাছি হওয়ায় চিকিৎসার জন্য সেখানেই আসেন তিনি।
হাসপাতালে জ্যান্ত সাপ নিয়ে আবদুল কাদেরের উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। পরে তাঁর স্বজনেরা একজন সাপুড়েকে ডেকে আনেন এবং সাপুড়ে এসে সাপটি নিয়ে যান।
সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা সেলিম কবির বলেন, ‘লোকটির সাহস দেখে অবাক হয়েছি। তিনি জ্যান্ত সাপ ধরে হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন।’
সেলিম কবির জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেছে সাপটি বিষধর নয়। তাই আবদুল কাদেরের শরীরে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। তবে পর্যবেক্ষণের জন্য তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘কাউকে সাপে কামড়ালে দেরি না করে দ্রুত হাসপাতালে আসা উচিত। সাপ ধরতে যাওয়া আরও বিপজ্জনক ও হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’




