…English
বড়লেখা টুডে লোগো
সব বড় ঘটনার খবর — নিজের ভাষায়, প্রতি ঘণ্টায়
প্রচ্ছদ › স্বাস্থ্য › খবর
স্বাস্থ্য

২০২২ সালে চিকিৎসার খরচে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছেন ১ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ: স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২২ সালে চিকিৎসার খরচে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমেছেন ১ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ: স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণা
ছবি: সংগৃহীত

অসুস্থ হলে চিকিৎসা নিতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন দেশের মানুষ। ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের ফি কিংবা হাসপাতালে ভর্তি—সব ক্ষেত্রেই নিজেদের পকেট থেকে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে পরিবারগুলোকে। এতে কমছে সঞ্চয়, বাড়ছে আর্থিক অনিশ্চয়তা। এমনকি চিকিৎসার খরচ মেটাতে গিয়ে অনেকে দারিদ্র্যসীমার নিচেও নেমে যাচ্ছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের (এইচইইউ) এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত ১৭ বছরে পরিবারের মাসিক গড় চিকিৎসাব্যয় বেড়েছে প্রায় ২ দশমিক ৬ গুণ। একই সময়ে চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশে।

‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবায় ব্যক্তিগত ব্যয়ের কারণে সৃষ্ট আর্থিক সংকট ও সরকারি স্বাস্থ্যসেবার সুবিধা বণ্টন’ শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২২ সালে চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ১ কোটি ৮ লাখের বেশি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছেন। ২০০৫ সালে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ৫৬ লাখ।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে চিকিৎসাব্যয়ের কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া মানুষের হার ৬ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ২০০৫ সালে ছিল ৩ দশমিক ৯ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ও সুইডিশ দূতাবাসের সহায়তায় পরিচালিত গবেষণায় আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে দেশে সামগ্রিক দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে ১৮ দশমিক ৭ শতাংশে নামলেও চিকিৎসার খরচজনিত আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের হার ২৮ দশমিক ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে। বিশ্বব্যাপী এই হার ২৬ শতাংশ।

গবেষণায় দেখা যায়, মূল্যস্ফীতির প্রভাব সমন্বয়ের পরও একটি পরিবারের মাসিক গড় চিকিৎসাব্যয় ২০০৫ সালের ১ হাজার ২৪১ টাকা থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৩ হাজার ২৩৮ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে চিকিৎসার জন্য নিজস্ব অর্থ ব্যয় করা পরিবারের হার ৫২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে।

চিকিৎসাব্যয়ের বড় অংশ যাচ্ছে ওষুধ কেনার পেছনে। ২০২২ সালে বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেওয়া রোগীদের মোট ব্যয়ের ৭৪ শতাংশ খরচ হয়েছে ওষুধে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে ওষুধে ব্যয়ের হার ছিল ৩৫ শতাংশ। রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষায় বহির্বিভাগের রোগীদের মোট চিকিৎসাব্যয়ের ১১ শতাংশ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ২২ শতাংশ খরচ হয়েছে।

বহির্বিভাগের চিকিৎসায় ফার্মেসির ওপর মানুষের নির্ভরতাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে এ ধরনের চিকিৎসাসেবার ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ ফার্মেসির মাধ্যমে নেওয়া হলেও ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৫ দশমিক ৪ শতাংশে।

গবেষণায় দেখা গেছে, চিকিৎসার খরচ বহন করতে গিয়ে দরিদ্র মানুষ সবচেয়ে বেশি আর্থিক সংকটে পড়ছেন। ২০২২ সালে দেশের সবচেয়ে দরিদ্র ২০ শতাংশ মানুষের মধ্যে ৯০ দশমিক ৮ শতাংশ চিকিৎসাব্যয়ের কারণে আর্থিক চাপে পড়েছেন। ধনী ২০ শতাংশের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ। গ্রামাঞ্চলে এই হার ছিল ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ২৮ দশমিক ২ শতাংশ।

বিভাগগুলোর মধ্যে বরিশালে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে চিকিৎসার ব্যয়জনিত আর্থিক সংকটে পড়া মানুষের হার ২০০৫ সালের ২২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২২ সালে ৫৯ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে।

গবেষণায় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের প্রবণতা কমার চিত্রও উঠে এসেছে। ২০১৬ সালে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ৬১ দশমিক ৩ শতাংশ সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নিলেও ২০২২ সালে তা কমে ৫৬ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা নেওয়ার হার ৩৬ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪২ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

গবেষণাটি ২০০৫, ২০১০, ২০১৬ ও ২০২২ সালের খানা আয় ও ব্যয় জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন দরিদ্র মানুষের বেশি হলেও সরকারি স্বাস্থ্যব্যয়ের সুবিধা যথাযথভাবে তাদের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। চিকিৎসাব্যয়ের চাপ কমাতে স্বাস্থ্য খাতে সরকারি অর্থায়ন বাড়ানো, বরাদ্দের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ ও রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা সহজলভ্য করার সুপারিশ করেছে গবেষক দল। দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা সাশ্রয়ী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যবিদ অধ্যাপক ডা. মোজাম্মেল হক বলেন, চিকিৎসার ব্যয় বাড়তে থাকলে দরিদ্র ও নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে। স্বাস্থ্যসেবার বড় অংশের খরচ ব্যক্তিকে বহন করতে হলে অসুস্থতা শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, আর্থিক সংকটের কারণও হয়ে দাঁড়ায়। তিনি সরকারি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সহজলভ্য করা এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কার্যকর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি জানান, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফার্মেসি, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সেবার মান নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের আরও খবর

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কামড় দেওয়া জ্যান্ত সাপ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে হাসপাতালে এলেন আব্দুল কাদের
স্বাস্থ্য

টাঙ্গাইলের সখীপুরে কামড় দেওয়া জ্যান্ত সাপ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে হাসপাতালে এলেন আব্দুল কাদের

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কামড় দেওয়া সাপটিকে জ্যান্ত ধরে নিয়ে এসেছেন আব্দুল কাদের (৫০) নামে এক ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর…

প্রতিদিন চিনাবাদাম খেলে মস্তিষ্কের ইনসুলিন সাড়া ভালো হয়, বলছে মাস্ত্রিখটের নতুন গবেষণা
স্বাস্থ্য

প্রতিদিন চিনাবাদাম খেলে মস্তিষ্কের ইনসুলিন সাড়া ভালো হয়, বলছে মাস্ত্রিখটের নতুন গবেষণা

প্রতিদিন চিনাবাদাম খেলে বয়স্কদের মস্তিষ্কের স্মৃতি-সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর ইনসুলিনের প্রতি সাড়া ভালো হতে পারে, এমন ইঙ্গিত দিয়েছে একটি সাম্প্রতিক বৈজ্ঞ…

সাপের ছোবল খেয়েও জ্যান্ত সাপ ধরে হাসপাতালে ভালুকার আবদুল কাদের, পরীক্ষায় জানা গেল সাপটি বিষধর নয়
স্বাস্থ্য

সাপের ছোবল খেয়েও জ্যান্ত সাপ ধরে হাসপাতালে ভালুকার আবদুল কাদের, পরীক্ষায় জানা গেল সাপটি বিষধর নয়

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কাদের (৫০) সাপের ছোবল খাওয়ার পর নিজেই সাপটিকে জ্যান্ত ধরে হাসপাতালে গেছেন। বৃহস্পতিবার …

বয়স বাড়লেই ভুলে যাওয়া মানেই ডিমেনশিয়া নয়: বি১২, থাইরয়েড, ঘুম ও ওষুধও হতে পারে কারণ
স্বাস্থ্য

বয়স বাড়লেই ভুলে যাওয়া মানেই ডিমেনশিয়া নয়: বি১২, থাইরয়েড, ঘুম ও ওষুধও হতে পারে কারণ

বাজারে গিয়ে মানিব্যাগ নিতে ভুলে যাওয়া, চশমা খুঁজতে গিয়ে দেখা সেটি মাথাতেই রয়েছে, কিংবা পরিচিত কারও নাম হঠাৎ মনে করতে না পারা—বয়স বাড়ার সঙ্গে এমন…