নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ১০ হাজার শিক্ষার্থীর ভরসা মাত্র ৪ চিকিৎসক, রাতে সেবা নেই ‘ব্যথার দান’ মেডিকেল সেন্টারে
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের নাম ‘ব্যথার দান’। তবে ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা দিতে এই মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র চারজন।
চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি রাতে চিকিৎসাসেবা না থাকায় অসুস্থ হলে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে। ফলে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসাসেবা চালুর দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মেডিকেল সেন্টারে চারজন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। এর মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ চিকিৎসক। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর জন্য এই সংখ্যা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মেডিকেল সেন্টারের উপপ্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ মমতাজ বেগম বলেন, বর্তমানে চারজন চিকিৎসক দিয়ে ২৪ ঘণ্টা সেবা চালু রাখা সম্ভব নয়। অন্তত ১০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। বিশেষ করে রাতে এক থেকে দুজন চিকিৎসক থাকলে জরুরি পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।
তিনি জানান, প্রতিদিন মেডিকেল সেন্টারে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ রোগী আসেন। জ্বর, সর্দি, কাশি ও বিভিন্ন সাধারণ অসুস্থতা নিয়ে শিক্ষার্থীরা বেশি আসেন। তবে চিকিৎসকের পাশাপাশি কখনো কখনো ওষুধেরও সংকট তৈরি হয়। সরবরাহের কাগজপত্র বা ওষুধ আসতে দেরি হলে সাময়িকভাবে কিছু ওষুধের ঘাটতি দেখা দেয়।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, সবচেয়ে বড় সমস্যা তৈরি হয় সন্ধ্যার পর। রাতে অসুস্থ হলে মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসক না থাকায় তাদের ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হয়।
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিব ভূঁইয়া বলেন, সন্ধ্যার পর কোনো শিক্ষার্থী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে ক্যাম্পাসে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। তখন বাধ্য হয়ে বাইরে যেতে হয়। ক্যাম্পাসেই অন্তত প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সিএসই বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রত্না আক্তার বলেন, রাতে অসুস্থ হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহে যেতে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলে এই ধরনের ভোগান্তি কমত। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহও বাড়ানো দরকার।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল অনুমোদন ও নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান চিকিৎসক দিয়েই সেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ১০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে মেডিকেল সেন্টারে বর্তমানে যে চারজন চিকিৎসক রয়েছেন, তা পর্যাপ্ত নয়। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি তাঁরা অবগত আছেন। এই সংকট নিরসনে আরও চিকিৎসক নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) কাছে চাহিদা পাঠানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবার পরিধি বাড়ানো সম্ভব হবে। শিক্ষার্থীরা যেন ক্যাম্পাসেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।




