আইএইচটি ও ম্যাটসে ৪ হাজার ২৮৩ আসনে ভর্তির আবেদন চলছে, পরীক্ষা ১৩ নভেম্বর

মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (ম্যাটস) ও ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজিতে (আইএইচটি) ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। গত ২৭ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আবেদন কার্যক্রম চলবে আগামী ৬ নভেম্বর পর্যন্ত। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৬ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। পরদিন একই সময় পর্যন্ত ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে। ৯ ও ১০ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৩ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত।
ভর্তি–ইচ্ছুক প্রার্থীরা টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করবেন। একজন প্রার্থী যেকোনো একটি প্রতিষ্ঠানের জন্যই আবেদন করতে পারবেন। ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফি ৮০০ টাকা; এ টাকা অফেরতযোগ্য এবং প্রিপেইড টেলিটকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।
এ বছর মোট ২৩টি আইএইচটি ও ৭টি ম্যাটসে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন। আইএইচটিতে মোট আসন ৩ হাজার ৬১৯টি এবং ম্যাটসে ৬৬৪টি—সব মিলিয়ে মোট আসন ৪ হাজার ২৮৩টি।
আসন বণ্টন অনুযায়ী ঢাকায় ৩২৭টি, বগুড়ায় ৩০৭টি, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, বরিশাল, রংপুর ও ঝিনাইদহে ২৭৭টি করে, সিলেটে ২৫৭টি এবং জামালপুরে ২০৬টি আসন রয়েছে। ম্যাটসের আসনের মধ্যে বাগেরহাটে ১৫২টি, কুষ্টিয়া, নোয়াখালী, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে ১০২টি করে এবং কুমিল্লা ও ফরিদপুরে ৫২টি করে আসন আছে।
ভর্তির যোগ্যতা অনুযায়ী প্রার্থীকে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক হতে হবে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। প্রার্থীকে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ন্যূনতম জিপিএ ৩.০০ পেয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে এবং জীববিজ্ঞানে ন্যূনতম জিপিএ ২.০০ থাকতে হবে।
ভর্তি পরীক্ষা হবে এসএসসির সিলেবাস অনুযায়ী এক ঘণ্টায় ১০০ নম্বরের এমসিকিউ পদ্ধতিতে। মানবণ্টন অনুযায়ী বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞানে ১৫ নম্বর করে এবং সাধারণ জ্ঞানে ১০ নম্বর থাকবে। পরীক্ষায় পাস নম্বর ৪০। এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার জিপিএ থেকে নির্ধারিত ১০ নম্বর ও এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের যোগফল থেকে জাতীয় মেধা অনুযায়ী প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অকৃতকার্য প্রার্থীরা কোনো সরকারি বা বেসরকারি আইএইচটি ও ম্যাটসে ভর্তির যোগ্য হবেন না।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য মোট আসনের ১ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে। এসব প্রার্থীকে অন্য সাধারণ প্রার্থীদের মতো একই শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে একই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে এবং মেধার ভিত্তিতেই নির্বাচন করা হবে। কোনো সংরক্ষিত আসনে উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া না গেলে সাধারণ মেধাক্রমের ভিত্তিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য ৫ শতাংশ আসন মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। এসব আসনের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বেতন-ভাতা ও সেশন চার্জের অতিরিক্ত কোনো ফি নেওয়া যাবে না।
অভিন্ন ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মেধাক্রম অনুযায়ী সরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর অবশিষ্ট উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পছন্দ অনুযায়ী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আবেদনকারীদের মেধাক্রম অনুসারে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি ভর্তির অনুমোদন দেবে।
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ অনুমোদিত কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। আইএইচটির ডিপ্লোমা ইন মেডিক্যাল টেকনোলজি কোর্সে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ৯ মাস হাসপাতালে সংযুক্তি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। ম্যাটসের শিক্ষার্থীদের কোর্স শেষে অনুমোদিত লগবুক অনুযায়ী নিকটস্থ জেলা সদর হাসপাতাল অথবা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট যেকোনো হাসপাতালে ৬ মাসের ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে।




