বাইন্যান্সে রেকর্ড ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের হ্যাকিং, সব ক্ষতি বহনের ঘোষণা এক্সচেঞ্জটির

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এক বিশাল হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে, যা এই শিল্পে এখন পর্যন্ত রেকর্ড পরিমাণ অর্থ চুরির ঘটনা। শুক্রবার দ্য গার্ডিয়ান এ তথ্য জানিয়েছে।
বাইন্যান্স দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদগুলো জব্দ করার চেষ্টা চালাচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের হদিস পেয়েছে। বাকি ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বিষয়ে কোম্পানিটি এখনো কিছু জানায়নি।
তবে বাইন্যান্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ই হি জানিয়েছেন, হ্যাকিংয়ের ফলে হওয়া ‘সব ক্ষতি’ কোম্পানিটি বহন করবে।
বাইন্যান্সের সহ-প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড টেং বলেছেন, ‘সহজ কথায় বলতে গেলে—আপনাদের অর্থ নিরাপদ আছে এবং যেকোনো ধরনের ক্ষতি আমরা পুষিয়ে দেব।’
বিশ্লেষকরা এই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়া-সমর্থিত হ্যাকারদের দায়ী করেছেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার ক্রিপ্টো হ্যাকিংয়ের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে।
গত বছর টোকিওর একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদ চুরির পেছনেও তাদের হাত ছিল—যা ছিল আগের রেকর্ড।
ক্রিপ্টো বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টিআরএম অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়েছে, এই হামলার পেছনে উত্তর কোরিয়ার বিশেষ হ্যাকিং ইউনিট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ জড়িত। আরেকটি বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান চেইনঅ্যানালাইসিসও এই চুরির জন্য ‘ট্রেডারট্রেইটর’কেই দায়ী করেছে।
বাইন্যান্স সরাসরি অর্থ চুরির কথা স্বীকার না করলেও টিআরএম ও চেইনঅ্যানালাইসিসের দাবি অনুযায়ী ৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, সমস্যাটি সমাধানের জন্য তাদের দলগুলো দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে।
বাইন্যান্সের ভাষ্যমতে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মাধ্যমেই এই অনুপ্রবেশের সূত্রপাত হতে পারে। এর ফলে হ্যাকাররা তাদের একটি সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পেয়ে যায় এবং অননুমোদিতভাবে অর্থ তুলে নেয়।
প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে বলেছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সব ধরনের জমা (ডিপোজিট) ও উত্তোলন (উইথড্রয়াল) সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা দলগুলো প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছে, ওয়ালেট অবকাঠামো সুরক্ষিত করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ শনাক্ত করার কাজ করছে। এই প্রক্রিয়ায় আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও শিল্প খাতের অংশীদারদের কাছ থেকে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
বাইন্যান্সে ব্যবহারকারীরা ডিজিটাল সম্পদ কেনা, বেচা ও লেনদেন করতে পারেন—বিশ্বজুড়ে এর নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৩ কোটি ৫০ লাখ। এক্সচেঞ্জটির ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাদের কাছে গচ্ছিত সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৬ হাজার ২৮০ কোটি ডলার (১৬২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার)।
শুক্রবার এশীয় বাজারের লেনদেনের শুরুতেই এর প্রভাব পড়ে। সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রিপ্টো সম্পদ বিটকয়েনের দর ৩ শতাংশের বেশি কমে ৭৬ হাজার ৩৬৮ ডলারে নেমে আসে, যা গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ কয়েনবেস গ্লোবালের শেয়ার দর ৪ দশমিক ৮ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া বিটকয়েন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্র্যাটেজির শেয়ার দর যুক্তরাষ্ট্রের বর্ধিত লেনদেনের সময় প্রায় ৬ শতাংশ হ্রাস পায়।
২০১৭ সালে চ্যাংপেং ঝাও বাইন্যান্স প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৩ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি গুরুতর অপরাধের (ফেলোনি) দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। তার প্ল্যাটফর্মে অর্থ পাচার রোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে তিনি সিইও পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে ক্ষমা করে দেন।




