শীতের সবজিতে স্বস্তি রাজধানীর বাজারে, এক সপ্তাহে ধনেপাতা-মরিচ-টমেটোর দাম কমেছে অর্ধেকের বেশি, চাল বেড়েছে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা

শীতকালীন সবজি বাজারে আসতে শুরু করায় রাজধানীর বাজারে কমতে শুরু করেছে সবজির দাম। এক সপ্তাহের ব্যবধানে টমেটো, কাঁচা মরিচ, ধনেপাতা ও শিমের দাম কমেছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ থেকে অর্ধেকেরও বেশি।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর লালবাগ, আজিমপুর, নবাবগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
বাজারে সবচেয়ে বেশি কমেছে ধনেপাতার দাম। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ধনেপাতা ১৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।
কাঁচা মরিচের দাম কেজিতে ১২০ টাকা থেকে কমে হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। টমেটো ১৪০ টাকা থেকে কমে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। আর শিমের দাম ১২০ টাকা থেকে নেমে এসেছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়।
শীতের আগাম সবজিও বাজারে আসতে শুরু করেছে। ছোট আকারের ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায়।
অন্যান্য সবজির মধ্যে শসা ও বরবটি প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, করলা, ঢ্যাঁড়স, চিচিঙ্গা ও ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুর মুখি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, পেঁপে ও পটল ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির পাশাপাশি কমেছে মুরগির দামও। বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়, গত সপ্তাহের চেয়ে প্রায় ২০ টাকা কমে। সোনালি মুরগির দামও কেজিতে ২০ টাকা কমে ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকায় নেমেছে।
তবে ডিমের বাজারে চিত্র উল্টো। বিক্রেতারা জানান, গত সপ্তাহে টানা ছুটির সময় প্রতি ডজন ডিমের দাম কমে ১৪০ টাকায় নেমেছিল। এখন তা আবার ১০ টাকা বেড়ে ১৫০ টাকা হয়েছে, আর প্রতিদিনই ডিমের দাম ওঠানামা করছে।
মাছের বাজারে স্বস্তি নেই। লালবাগের মাছ বিক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, ছুটির দিন হওয়ায় শুক্রবার অনেকেই বাজার করেন, এতে মাছের চাহিদা ও ক্রেতার চাপ বেড়ে যায়, ফলে দামও কিছুটা বেশি থাকে।
বাজারে মাঝারি আকারের পাঙাশ, কই ও মৃগেল মাছ প্রতি কেজি ২২০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া তেলাপিয়া ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা, পাবদা ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাঝারি রুই ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, কাতলা ৪০০ টাকা, শিং ৩৫০ টাকা, দেশি সরপুঁটি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পোয়া ৫০০ টাকা এবং টেংরা ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ছোট গলদা চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায়।
তবে সবজির দাম কমলেও সাধারণ মানুষের প্রধান খাদ্য চালের বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে সরু, মাঝারি ও মোটা—সব ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে।
বর্তমানে মানভেদে সরু চাল নাজিরশাইল ও মিনিকেট প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; এক সপ্তাহ আগে এসব চালের দাম ছিল ৬৮ থেকে ৮৫ টাকা। মাঝারি মানের পাইজাম, ব্রি-২৮ ও ব্রি-২৯ চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ থেকে ৬৫ টাকায়। নিম্ন আয়ের মানুষের বেশি কেনা মোটা চাল চায়না ইরি, গুটি ও স্বর্ণার দামও কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়ে হয়েছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।
খোলা পোলাও চাল মানভেদে প্রতি কেজি ১০০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্যাকেটজাত চিনিগুঁড়া ও কালিজিরা চালের দাম কেজিপ্রতি ২২০ থেকে ২৩০ টাকা, আর প্যাকেটজাত চালের দাম বেশি হওয়ায় অনেক ক্রেতা খোলা চাল কিনছেন।
বোতলজাত সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ-সংকট এখনো কাটেনি। তেল কিনতে ক্রেতাদের একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে। সরকার গত ২ সেপ্টেম্বর বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে, বোতলের গায়েও সেই দাম লেখা রয়েছে। তবে খুচরা বাজারে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়, নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬ টাকা বেশি।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম ও আমদানি ব্যয় বাড়ায় পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলো আরও এক দফা দাম বাড়ানোর দাবি করছে। এর মধ্যেই বাজারে তেলের সরবরাহ কমে গেছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।


