৬৯ জন নিহতের রেল দুর্ঘটনায় পদত্যাগ করবেন না স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী, বললেন ‘লুকানোর কিছু নেই’

স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে বলেছেন, অন্তত ৬৯ জন নিহত হওয়া দ্রুতগতির রেল সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি পদত্যাগ করবেন না। শুক্রবার মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তাঁর ‘লুকানোর কিছু নেই’ এবং সরকারের তলানিতে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
পুয়েন্তে বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার দায়িত্ব পদে থাকব কি না তা নিয়ে কথা বলা নয়, বরং সমস্যার সমাধান করা।’ দুর্ঘটনার পর থেকে তিনি পদত্যাগের দাবির মুখে রয়েছেন।
পদত্যাগের দাবি এসেছে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে, একটি ট্রেড ইউনিয়নের কাছ থেকে এবং বুধবার রাতে পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বাইরে বিক্ষোভ করা আন্দোলনকারীদের কাছ থেকেও।
বুধবার সকালে মধ্য স্পেনের তোলেদো প্রদেশের উরদা শহরের কাছে রাষ্ট্রীয় পরিচালনাধীন রেনফের একটি দ্রুতগতির ট্রেন, আইরিও কোম্পানির দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনের পেছনে সজোরে ধাক্কা মারে। এতে কয়েক ডজন মানুষ নিহত এবং আরও অনেকে আহত হন।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে পরিবহন তদন্তকারীদের প্রকাশ করা প্রাথমিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সংঘর্ষের সময় রেনফে ট্রেনটি ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার (৯৯.৪ মাইল) থেকে ২০০ কিলোমিটারের মধ্যে গতিতে চলছিল, যার ফলে এর সামনের বগি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনটির লেজের অংশে ঢুকে যায়।
শুক্রবার এর আগে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, দেশের দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্কের প্রতি জনগণের আস্থা ভেঙে গেছে এবং এক বছরের মধ্যে একই ধরনের দুটি ট্র্যাজেডি ঘটা ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে তিনি পুনরায় মন্তব্য করেন।
গত জানুয়ারিতে একই মাদ্রিদ-সেভিয়া রুটে দক্ষিণ স্পেনের আদামুজে সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। বুধবারের দুর্ঘটনাটি আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ রেল বিপর্যয়গুলোর একটি এবং ২০১৩ সালের পর স্পেনের সবচেয়ে মারাত্মক রেল দুর্ঘটনা।
পুয়েন্তে বুধবার বলেছিলেন, সেদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে একটি কম্পিউটার ত্রুটির কারণে প্রথমে ছয়টি চলন্ত ট্রেন থামানো হয়, যার মধ্যে পরে সংঘর্ষে পড়া দুটি ট্রেনও ছিল। তিনি বলেছিলেন, কোনো গতি-সীমা ছাড়াই ট্রেনগুলোকে আবার চলার নির্দেশ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল ‘ব্যাখ্যাতীত’।
স্প্যানিশ গণমাধ্যমে ফাঁস হওয়া অডিও রেকর্ডিংয়ে দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ট্রেনচালকদের সঙ্গে মাদ্রিদের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের কথোপকথন শোনা গেছে। তিনটি অডিও রেকর্ডিং থেকে মনে হচ্ছে, একটি দ্রুতগতির ট্রেনকে চলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যদিও প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) সামনে আরেকটি ট্রেন লাইনে আটকে ছিল।
অডিও রেকর্ডিং ফাঁসের সমালোচনা করেছেন কিছু স্প্যানিশ রাজনীতিবিদ। বামপন্থী সুমার প্ল্যাটফর্মের কংগ্রেস সদস্য আলবের্তো ইবানিয়েজ এক্সে (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, এগুলো ‘ঘৃণ্য’।
অন্যদিকে বামপন্থী পোদেমোস দলের প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী ইরেনে মন্তেরো বলেছেন, দুর্ঘটনার দায় একক কোনো কর্মীর ওপর চাপানো উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ট্রেনচালক ও বিশেষজ্ঞরা বছরের পর বছর ধরে রেল খাতের উদারীকরণের বিরুদ্ধে সতর্ক করে আসছেন।
শুক্রবার পুয়েন্তে বলেন, তিনি ‘কোনো কর্মীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করবেন না’। তবে তিনি বলেন, এই ট্র্যাজেডির ফলে ‘অনেক প্রশ্ন’ উঠেছে এবং তিনি সেগুলো ‘একটি একটি করে’ খতিয়ে দেখতে চান। তিনি আরও বলেন, তদন্তে মানবিক ভুল প্রমাণিত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




