নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়া প্রাথমিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমান রুহিয়া উপজেলার আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত।
শুক্রবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
গত বুধবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্বাচন পরিচালনা-২ অধিশাখা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী অবিলম্বে বিভাগীয় মামলা করে দ্রুত তা নিষ্পত্তি এবং গৃহীত ব্যবস্থা কমিশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় উদ্বোধনসহ বিভিন্ন নির্বাচনী কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন জুলফিকার রহমান।
জুলফিকার রহমান মুঠোফোনে ধারণ করা বক্তব্যের ভিডিও নিজের ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। পরে তা একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির অনুসন্ধানে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এবং নির্বাচন আইন অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে কিংবা কোনো প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেন না। তবে জুলফিকার রহমান একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচারে অংশ নিয়ে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
এই উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১ লাখ ৩১ হাজার ৩৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফলে ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৮৯ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
ভোটের লড়াই শেষে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়ায় দেলাওয়ার হোসেনের বাসায় ফুলের তোড়া নিয়ে যান মির্জা ফয়সল আমীন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।




