জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলবে মানুষ: লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে মজিবুর রহমান মঞ্জু
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে মানুষ বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে মানুষ তাদের বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে। আর কোনো কারণে ক্ষমতা ছাড়তে হলে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ব্যর্থ হওয়ার দায়ও তাদের নিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা হয়তো আমাদের লংমার্চের একটা অন্তিম পর্যায়ে এসে পৌঁছেছি। অর্থাৎ কর্মসূচি শেষ। এরপরে আমাদের কর্মসূচি আছে ঢাকার দিকে। আমরা সবাইকে নিয়ে সমাবেশ করব। আমরা যে কথাটা বারবার বলার চেষ্টা করেছি, বিএনপিকে আপনারা ক্ষমতায় এসেছেন। আপনারা যদি ক্ষমতায় থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করেন কিংবা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করেন, তাহলে মানুষ আপনাদেরকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আর যদি কোনো কারণে আপনাদেরকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়, তাহলে জুলাই সনদের যেই লক্ষ্য আমরা তৈরি করেছিলাম, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, সেটা যদি ব্যর্থ হয়, তাহলে লিখে রাখেন, আপনারা যদি ক্ষমতা ছাড়েন, সবচেয়ে বেশি জুলুম-নিপীড়নের শিকার আবার আপনারা হবেন।’
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীর বিক্রম; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক; বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার; বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী; জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান; বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান; বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান; বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম এবং ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি একটু স্পেশালি শেখ হাসিনাকে একটা বার্তা পৌঁছাতে চাই। শেখ হাসিনাকে বলতে চাই, ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করেন না বোন। পারলে আপনি নভেম্বরে চলে আসেন। জুলাইয়ের ক্ষত এখনো আমাদের মনে ধবধবে ক্ষয়ের মতো আছে। আপনি যত দ্রুত দেশে ফিরবেন, এই ঘা শুকানো এবং নিরাময়ের ব্যবস্থা আমাদের হবে। আপনি আসেন, আমরা প্রস্তুত আছি।’
বিএনপির বিরুদ্ধে জুলাই সনদ নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘বিএনপি আমাদেরকে জুলাই সনদের অক্ষরের চক্করে ফেলে টক্কর খেলতে চায়। আমরা বলছি, গণভোটে ৪ কোটি মানুষ ভোট দিয়েছে। আমি বিরোধীদলীয় নেতা সহ জাতীয় নেতাদের অনুরোধ করব, এরপরের কর্মসূচি হবে, যেই ৪ কোটি জনতা ভোট দিয়েছে, তাদের পক্ষে আমরা ৪ কোটি জনতার একটি মঞ্চ তৈরি করব ইনশাআল্লাহ। আমরা ধরিয়ে দেব, আপনারা কীভাবে আমাদের সঙ্গে এক একটা করে বেইমানি করছেন।’
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি বলেছিল এক কোটি লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘করেছে? একজন লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে?’ তিনি বলেন, সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, চার শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ‘আর বিএনপি চাকরি দেবে কি!’
আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির তুলনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কেন আমরা আওয়ামী লীগের সঙ্গে তুলনা করি, খুব দুঃখ থেকে করি। গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর প্রথম এক বছরে অন্তর্দ্বন্দ্বে আওয়ামী লীগের নেতা মারা গেছে ৩৮ জন। আর বিএনপি মাশাল্লাহ আট মাসে এটা ৪৫ জন পার করে দিয়েছে। তাহলে বলেন, চরিত্রের কী মিল?’
বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবি পার্টির চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখেছি এ পর্যন্ত বিশৃঙ্খলার কারণে, দলীয় বিশৃঙ্খলার কারণে বিএনপির ৮ হাজার নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করতে হয়েছে। ১৫ বছর শেখ হাসিনার শাসনকালে আপনাদের এত শক্তি, এত বড় দল, একটা লোকেরও তো বহিষ্কার হতে দেখি নাই। এই দুই মাসে, এই দুই বছরে কী কারেন্ট চলে আসলো আপনাদের গায়ে? আপনাদের ৮ হাজার লোক দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে ফেলল।’
লংমার্চের পরবর্তী কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলছেন, এরপরে আমরা কী করব? লংমার্চ শেষ হলে কী করব? বিএনপি কী করেছিল মনে রাখবেন। বিএনপি যেই সমস্ত কর্মসূচি করেছিল, আমাদের সেগুলো মনে আছে। আমরা একটা একটা করে সে সমস্ত কর্মসূচিতেও যাওয়ার ইনশাআল্লাহ পরিকল্পনা করছি।’
মজিবুর রহমান মঞ্জু আরও বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত সুস্পষ্ট কথা, আমাদের ভাই এবং বোনদের রক্তের সঙ্গে কোনো ধরনের বেইমানি আমরা বরদাস্ত করব না। আমরা প্রত্যেকটা রক্তের সঙ্গে ওয়াদা করেছি। জুলাই সনদ শুধু আমরা কলম দিয়ে লিখি নাই। জুলাই সনদ বাংলার প্রতিটি মানুষের রক্তের অক্ষরে লেখা সনদ। এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য আবার রক্ত প্রয়োজন হলে রাজপথে রক্ত দিয়ে জুলাই সনদ আমরা আদায় করব ইনশাআল্লাহ। লড়াই চলছে, লড়াই চলবে।’


