গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে চড়া মূল্য দিতে হবে: শফিকুর রহমান

বিএনপি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে চড়া মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান।
শনিবার রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে তিনি এই কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি সরকার জনগণের বিশ্বাস ভঙ্গ করেছে, জনগণকে আশাহত করেছে। বিএনপি অতীত থেকে শিক্ষা নেয়নি, বরং তারা নতুন নতুন জঞ্জাল সৃষ্টি করছে।
শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ব্যক্তিগত ও দলীয় দাবি নিয়ে রাস্তায় নামিনি, এসব জনগণের দাবি। আমাদের আগের দুটি লংমার্চ জনগণের সহযোগিতায় সফল হয়েছে।
তিনি বলেন, সাত দফা দাবির মধ্যে মূল দাবি হলো গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করা। এই দাবি আদায় হলে বাকি ছয়টি দাবি মাথাচাড়া দিত না।
যুব সমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা কারও ছলনায় কান দিও না। আরেকটি বিপ্লব আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে।
সমাবেশে এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, আমরা চাই দেশটা ভালোভাবে চলুক। সিস্টেম ভালো না থাকলে দেশ ভালোভাবে চলতে পারে না। তিনি অভিযোগ করেন, এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর জেলা, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন করপোরেশন বিএনপির কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে সমস্ত টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের চরম ঊর্ধ্বগতি এবং তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারসহ জনগণের গুরুত্বপূর্ণ অধিকার আজ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। সারাদেশ সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে ছেয়ে গেছে এবং সরকার প্রশাসনে দলীয়করণ করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
মামুনুল হক আরও বলেন, এই সবকিছুর মূল সমস্যা হলো সংবিধান সংস্কার না করা ও গণভোটের রায় কার্যকর না করা। গণভোটের রায় কার্যকর করে সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমেই জুলাই বিপ্লবের ফসল ঘরে তোলা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার মন্তব্য করেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশে হত্যা, সহিংসতা, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও রাজনৈতিক সংঘাত বেড়েই চলেছে বলে তিনি বলেন।
সমাবেশ শেষে সকাল সাড়ে আটটার দিকে ১১ দলের নেতাকর্মীরা লংমার্চ শুরু করেন। পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর ও ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহের বাস টার্মিনালে পথসভা করা হবে।
লংমার্চের সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে।


