দক্ষিণ এশিয়ায় বিএমআই ২৩ পেরোলেই অতিরিক্ত ওজন: স্থূলতা বাড়ার কারণ ও নিয়ন্ত্রণের উপায়

সাধারণভাবে বিএমআই ২৫-এর বেশি হলে অতিরিক্ত ওজন এবং ৩০-এর বেশি হলে স্থূলতা বা ওবেসিটি বলা হয়। তবে দক্ষিণ এশিয়ার বাসিন্দাদের ক্ষেত্রে হিসাবটি আরও কড়া—বিএমআই ২৩-এর বেশি হলেই তা অতিরিক্ত ওজন হিসেবে ধরা হয়।
স্থূলতার সবচেয়ে বড় কারণ অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ ও কম শারীরিক পরিশ্রম। প্রয়োজনের বেশি ক্যালরি খাবার হিসেবে গ্রহণ করলে এবং সে অনুপাতে শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম না করলে অতিরিক্ত ক্যালরি শরীরে জমা হয়ে স্থূলতা সৃষ্টি করে। বেশি ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সে অনুপাতে পরিশ্রম না করা স্থূলতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত।
জেনেটিক, মেটাবলিক বা হরমোনজনিত সমস্যায়ও স্থূলতা হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত খাওয়া এবং কম শারীরিক পরিশ্রমই এর জন্য দায়ী।
ঘুমের সঙ্গে ওজন নিয়ন্ত্রণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রাতে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমালে ক্ষুধা বাড়ার হরমোনের নির্গমন বাড়ে এবং লেপটিন হরমোন কমে যায়; এর ফলে ক্ষুধা বেড়ে গিয়ে ওজনও বেড়ে যায়। এছাড়া পর্যাপ্ত না ঘুমালে শরীর অতিরিক্ত কর্টিসল হরমোন তৈরি করে, যা ওজন কমাতে বাধা দেয়।
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা মানসিক চাপও স্থূলতার জন্য দায়ী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমানে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা একটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, ফাস্ট ফুড বেশি খাওয়া এবং কম ঘুমানোর কারণে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা দ্রুত বাড়ছে।
নিয়ন্ত্রণের প্রথম উপায় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন। খাবারে শর্করার পরিমাণ কমিয়ে প্রোটিন, শাকসবজি, আঁশ ও স্বাস্থ্যকর চর্বি বেশি পরিমাণে খেতে হবে। ফাস্ট ফুড, তেল-চর্বিযুক্ত খাবার ও অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত খাবার খাওয়া বাদ দিতে হবে।
জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনতে হবে—নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যায়ামকে দৈনন্দিন অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
পর্যাপ্ত ঘুমও ওজন নিয়ন্ত্রণের শর্ত। রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমাতে হবে এবং দিনে ঘুমানো কমাতে হবে।




