আশ্বাসের ছয় মাস পেরিয়েও পদোন্নতি হয়নি নোবিপ্রবি শিক্ষক গোলাম মোস্তফার, ক্ষোভ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ওশানোগ্রাফি বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা চার বছর ধরে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত থাকার অভিযোগ করেছেন। এ দাবিতে তিনি আমরণ অনশনেও বসেছিলেন।
গত ২১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনশন শুরু করেন ড. গোলাম মোস্তফা। তার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে অবস্থান নেন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
অনশনের সময় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে তাকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে। এতে তার পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং তিনি মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যাচাইয়ে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং প্রশাসনের চাওয়া সব তথ্য দেওয়ার পরও পদোন্নতি আটকে রাখা হয়েছে।
অনশনের দিন দুপুরে তৎকালীন উপ-উপাচার্য, ট্রেজারারসহ জ্যেষ্ঠ শিক্ষকেরা শহীদ মিনারে যান। তৎকালীন উপাচার্য ঢাকায় থাকায় তার সঙ্গে আলোচনা করে উপ-উপাচার্য আশ্বাস দেন, ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে তার আইনগত ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এই আশ্বাসে অনশন স্থগিত করেন ড. মোস্তফা।
তবে সাত দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে তিনি জানিয়েছিলেন, দাবি পূরণ না হলে আবারও অনশনে বসবেন। তিনি বলেছিলেন, এই কর্মসূচি পদের জন্য নয়, বরং তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়, অপমান ও মানসিক নির্যাতনের প্রতিবাদে।
আশ্বাসের নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি তৎকালীন প্রশাসন। এরপর ১৪ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী নোবিপ্রবির সপ্তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পান এবং নতুন উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পান ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পরও ড. মোস্তফার পদোন্নতির বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।
বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহে আফরান আবির বলেন, অনশনের দিন তৎকালীন ভিসি ও প্রো-ভিসিসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল, অতি দ্রুত পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু নতুন ভিসি ও প্রো-ভিসি দায়িত্ব গ্রহণের পরও বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়নি।
তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষকের ন্যায্য প্রাপ্য, পেশাগত মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব। বিভাগের শিক্ষার্থীরা ড. গোলাম মোস্তফা স্যারের ন্যায্য দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা পুনর্ব্যক্ত করছেন এবং নিয়ম ও নীতিমালা অনুসরণ করে দ্রুত সমাধানের জোর দাবি জানাচ্ছেন।
দীর্ঘদিন পদোন্নতি না পাওয়ার বিষয়ে ড. গোলাম মোস্তফা বলেন, “এটা জুলুমের এক্সট্রিম লিমিট পার হয়ে গেছে। আমার আর কোনো ভাষা নাই।”
বিষয়টি নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে পদোন্নতি ও আপগ্রেডেশনের কাজ চলছে। প্রথমে সহকারী ও সহযোগী অধ্যাপক পদের বোর্ডগুলোর কার্যক্রম চলছে, এরপর অধ্যাপক পদের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
তিনি জানান, শুধু ড. মোস্তফা নন, অধ্যাপক হওয়ার যোগ্য আরও অনেকের পদোন্নতি আটকে আছে এবং এ বিষয়ে বেশ কিছু আবেদনও জমা পড়েছে। অধ্যাপক পদের জন্য বিশেষজ্ঞ মতামত প্রয়োজন হয়, তবে আলাদা কোনো ভাইভা লাগে না। প্রশাসন ধাপে ধাপে যোগ্য সবার পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
আগামী রিজেন্ট বোর্ড সভার আগেই এ কাজ শেষ করা সম্ভব কি না জানতে চাইলে উপাচার্য বলেন, “তার আগে এটি সম্পন্ন করা বেশ কঠিন।”




