এইচএসসিতে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজে পাস ৯৯.৯৪ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন

সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় এবারও দুর্দান্ত ফল করেছে নরসিংদীর আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজ। প্রতিষ্ঠানটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১ হাজার ৫৫২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে ১ হাজার ৫৫১ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৬১ জন শিক্ষার্থী।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত ফলাফলে এই সাফল্যের চিত্র উঠে আসে। ফল প্রকাশের পরপরই কলেজজুড়ে শুরু হয় আনন্দ-উচ্ছ্বাস। মিষ্টি মুখ করানো আর উল্লাসে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
এই ফল এমন একদিনে এল, যেদিন বিভিন্ন বোর্ডে পাসের হার নিয়ে মিশ্র চিত্র সামনে এসেছে। এই রানেই সংগৃহীত তথ্যে সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ বলে জানা গেছে। সেই প্রেক্ষাপটে একটি কলেজের প্রায় শতভাগ পাসের হার আলাদা করে নজর কেড়েছে।
কলেজের বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ৩৯৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৬৯ জন এবং মানবিক বিভাগে ৯৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তিন বিভাগ মিলিয়ে মোট ৫৬১ জন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ গ্রেড পয়েন্ট অর্জন করেন।
একজন শিক্ষার্থীর অসুস্থতার কারণে মাত্র একটি অনুপস্থিতির জন্য শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। কলেজ কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ থাকায় পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। ফলে ১ হাজার ৫৫২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজন বাদে বাকি সবাই উত্তীর্ণ হয়েছে।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী সাব্বির আহমেদ বলেন, এই ফলাফলে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের সুশৃঙ্খল পরিবেশ এবং শিক্ষকদের দিনরাত পরিশ্রম না থাকলে আজ এই সাফল্য সম্ভব হতো না। ক্লাসের পড়া ক্লাসেই শেষ করানো এবং পরীক্ষাভীতি দূর করার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের গাইডলাইন ছিল অসাধারণ বলেও তিনি জানান।
একই কথা জানান মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ফারিয়া ইয়াসমিন। তিনি বলেন, তাঁদের ফলাফলে বাবা-মায়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় অবদান কলেজের শিক্ষকদের। বিশেষ করে দুর্বল বিষয়গুলোতে অতিরিক্ত ক্লাস ও ব্যক্তিগত তদারকি তাঁদের এত বড় অর্জন এনে দিয়েছে। কলেজের এই ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হতে পেরে তাঁরা গর্বিত বলেও তিনি জানান।
শিক্ষার্থীদের এই ফলাফলে সন্তোষ ও গর্ব প্রকাশ করেছেন আবদুল কাদির মোল্লা সিটি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান, থার্মেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. আবদুল কাদির মোল্লা। তিনি বলেন, শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষার্থীদের আন্তরিকতা ও অধ্যবসায় এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার ফলেই আজ নরসিংদীর আলো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
ড. আবদুল কাদির মোল্লা আরও বলেন, তাঁরা শুধু ভালো রেজাল্ট নয়, একজন শিক্ষার্থীকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মাত্র একজন শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির কারণে এবার শতভাগ অর্জন সম্ভব হয়নি, তবে বাকি সব শিক্ষার্থীর অর্জন তাঁদের গর্বিত করেছে। আগামীতে এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে তাঁরা আরও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।



