রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মাদ্রাসায় খাবার না পেয়ে হামলা: বাবুর্চির পর সহকারী সোনাবান বিবিও মারা গেলেন

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার একটি মাদ্রাসায় খাবার পরিবেশনের সময় এক ব্যক্তির হামলায় বাবুর্চির মৃত্যুর পর তাঁর সহকারী আহত সোনাবান বিবিও (৬৫) মারা গেছেন।
আজ শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গতকাল শুক্রবার দুপুরে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া আঞ্জুমান-ই-কাদেরিয়া মাদ্রাসাতু সাবি-ইল-হাসান দাখিল মাদ্রাসায় ওই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, খাবার চাওয়ার পর না দেওয়ায় এক ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত কাঠের চলা দিয়ে বাবুর্চি ফজের আলী সরদার (৭০) ও তাঁর সহকারী সোনাবান বিবির মাথা ও শরীরে আঘাত করেন। এতে ফজের আলীর মৃত্যু হয়।
নিহত ফজের আলী রাজবাড়ী সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়নের মল্লিকপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। সোনাবান বিবি ছিলেন গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর দৌলতদিয়া এলাকার সিদ্দিক কাজীপাড়ার প্রয়াত সাইমুদ্দিন শেখের স্ত্রী।
গুরুতর আহত সোনাবান বিবিকে প্রথমে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে রাতে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়, সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। প্রথমে তাঁর পরিচয় জানা না গেলেও পরে শনাক্ত হয়।
পুলিশ জানায়, ওই ব্যক্তির নাম মো. সেন্টু (৪২)। তিনি নাটোর সদর উপজেলার তেবাড়িয়া ইউনিয়নের একডালা দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। প্রায় ১০ বছর আগে বাড়ি ছেড়ে তিনি ভবঘুরে জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে রান্না শেষে মাদ্রাসার ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থীদের খাবার পরিবেশন করছিলেন ফজের আলী ও সোনাবান বিবি। এ সময় সেন্টু সেখানে গিয়ে খাবার চান। খাবার না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি পাশে থাকা রান্নার কাঠের চলা দিয়ে ফজের আলীর মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
ফজের আলীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোনাবান বিবিকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি সফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত ফজের আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক সেন্টুর স্বজনেরা জানিয়েছেন, প্রায় ১০ বছর আগে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং তাঁর মানসিক সমস্যা আছে।
ওসি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে খাবার না পেয়ে তিনি বাবুর্চি ও তাঁর সহকারীর ওপর হামলা করেন। সেন্টু গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন; চিকিৎসক ছাড়পত্র দিলে তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।




