তাহসিফ হত্যা মামলায় বন্ধু দ্বীপকে আদালতে পাঠাল পুলিশ, চাওয়া হবে সাত দিনের রিমান্ড

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় তার বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপকে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডে চাইবে পুলিশ।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) নৌ-পুলিশ ঢাকা রেঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, মামলায় দ্বীপকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের পর এ ঘটনায় আরও তথ্য জানা যাবে।
এর আগে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরখান থানায় মামলা করেন। এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তাহসিফের ‘জুনিয়র বন্ধু’ দ্বীপকে। মামলাটি উত্তরখান থানায় হলেও তদন্ত করবে নৌ-পুলিশ।
পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে থাকা দ্বীপকে নৌ-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দ্বীপকে নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানাধীন রাজাবাড়ী নৌঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নৌ পুলিশের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত কনস্টেবল রাকিব গণমাধ্যমকে জানান, ৯৯৯ নম্বর থেকে খবর পেয়ে নৌ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। তাহসিফের মোবাইল ফোন ও হাতঘড়ি পাওয়ার পর তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে তাহসিফের বন্ধু দ্বীপকে আটক করে পিবিআই।
শুক্রবার দ্বীপকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকার ২৯ নম্বর সীমানা পিলারসংলগ্ন মাঠে যায় তদন্ত দল। সেখানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলটি তাহসিফের বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পিবিআই জানিয়েছে, দ্বীপের দেওয়া বক্তব্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। ঘটনার রাতে তারা কেন ওই এলাকায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন।
দ্বীপের দাবি, ঘটনার রাতে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় কথা বলার সময় পুলিশ ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন তাদের ধাওয়া করেন। এতে ভয়ে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। আর তিনি নিজে আড়ালে লুকিয়ে পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে ধাওয়া করা ব্যক্তিরা সত্যিই পুলিশ ছিলেন কি না এবং সেখানে তাদের উপস্থিতির বৈধতা ছিল কি না, তা যাচাই করছে তদন্ত সংস্থা।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় উত্তরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের গ্যারেজে দ্বীপের সঙ্গে তাহসিফের দেখা হয়। এরপর মধ্যরাত পর্যন্ত তাদের মধ্যে দফায় দফায় মোবাইল ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ হয়।
এদিকে তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুকে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে নারাজ। তিনি ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন।




