মিরপুর টেস্টে কিংয়ের অপরাজিত ৮১ রানে ৮ উইকেটে হারল বাংলাদেশ, সিরিজে এগিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মিরপুর টেস্টে ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের স্পিনারদের সামনে অসহায় আত্মসমর্পণ করলেও দ্বিতীয় ইনিংসে সেই স্পিন আক্রমণ দাপটের সঙ্গে সামলে এক দিন হাতে রেখেই জিতেছে ক্যারিবীয়রা।
জয়ের পথে ব্রেন্ডন কিং খেলেছেন অপরাজিত ৮১ রানের ইনিংস, আর জন ক্যাম্পবেলের ব্যাট থেকে এসেছে ৪৯ রান। বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে একটি করে উইকেট নিয়েছেন পেসার শরীফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।
এই জয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
ম্যাচে দুই অনফিল্ড আম্পায়ার নীতিন মেনন (ভারত) ও স্যাম নোগাস্কির (অস্ট্রেলিয়া) আম্পায়ারিং ছিল বেশ বিতর্কিত। মোট চারটি লেগ বিফোরের সিদ্ধান্তে সায় দেননি এই দুই আম্পায়ার; পরে দেখা যায় চারবারই বল স্টাম্পে লেগেছিল, কিন্তু আম্পায়ার্স কলে বেঁচে যান ক্যারিবীয় ব্যাটাররা।
রোস্টন চেজ ও জোমেল ওয়ারিক্যানের ঘূর্ণিতে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ ভেঙে পড়লেও কিং ও ক্যাম্পবেলের ব্যাটে ভর করে ১৭০ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। উদ্বোধনী জুটিতে কিং ও ক্যাম্পবেল যোগ করেন ১১২ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলামের স্পিন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই সামলান দুই ওপেনার।
অবশেষে ইনিংসের ২১তম ওভারের পঞ্চম বলে ক্যাম্পবেলকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন শরীফুল ইসলাম। ৫৫ বলে ৪৯ রান করে ফেরেন এই ওপেনার।
এরপর মাত্র ১ রান করে হাসান মাহমুদের শিকার হন চন্দরপল। তবে তাতে জয়ের পথে কোনো বাধা তৈরি হয়নি। কাভেম হজকে সঙ্গে নিয়ে বাকি পথ সহজেই পাড়ি দেন কিং; শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ক্যারিবীয়রা।
এর আগে চতুর্থ দিনের সকালে ৬ উইকেটে ৭৯ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। আগের দিনের ১০৬ রানের লিডের সঙ্গে আরও কিছু রান যোগ করার প্রত্যাশা ছিল স্বাগতিকদের, কিন্তু দিনের শুরুতেই সেই আশায় ধাক্কা লাগে।
২২ রান করা জাকের আলী অনিককে ফিরিয়ে নাইম হাসানের সঙ্গে তাঁর ৩১ রানের জুটি ভাঙেন ওয়ারিক্যান। এরপর একই বোলারের শিকার হয়ে ফেরেন হাসান মাহমুদ; নাইমের সঙ্গে তাঁর জুটি থেকে আসে ২৬ রান।
এরপর তাইজুল ইসলাম ও শরীফুল ইসলামকে নিয়ে ছোট ছোট জুটি গড়ে দলের সংগ্রহ বাড়ানোর চেষ্টা করেন নাইম। তাইজুলের সঙ্গে ১৭ ও শরীফুলের সঙ্গে ১৫ রানের জুটি গড়েন তিনি। শেষ পর্যন্ত রোস্টন চেজের পঞ্চম শিকার হয়ে ফেরেন নাইম, তার আগে খেলেন ৫২ রানের লড়াকু ইনিংস। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর প্রথম অর্ধশতক এবং বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ রানও এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। নাইমের ব্যাটে ভর করেই ১৪২ রান পর্যন্ত পৌঁছায় স্বাগতিকদের ইনিংস।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন রোস্টন চেজ, তিনি নেন ৫ উইকেট। জোমেল ওয়ারিক্যান নেন ৪ উইকেট।
এর আগে প্রথম ইনিংসে সাদমান ইসলামের ১০৫ রানের সেঞ্চুরিতে ২৭২ রান সংগ্রহ করেছিল বাংলাদেশ। জবাবে বাংলাদেশের স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ২৪৫ রানেই গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ফলে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা। বাংলাদেশের হয়ে নাইম হাসান নিয়েছিলেন ৪ উইকেট।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিং বিপর্যয়ে সেই লিড কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। নাইমের লড়াকু অর্ধশতক সত্ত্বেও ১৪২ রানে থামে স্বাগতিকদের ইনিংস, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় মাত্র ১৭০ রান, যা অনায়াসেই পেরিয়ে মিরপুরে দাপুটে জয় তুলে নেয় ক্যারিবীয়রা।



