রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সাঁতরে প্রথম বগুড়ার রাব্বি রহমান, অংশ নিলেন ৩২ সাঁতারু

রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদের সুবলং চ্যানেলে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাঁতারুরা। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সুবলং চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় দুইজন নারীসহ মোট ৩২ জন সাঁতারু অংশ নেন। প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বগুড়ার মো. রাব্বি রহমান; তিনি সময় নিয়েছেন ৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
ভোরের আলো পুরোপুরি ছড়িয়ে পড়ার আগেই ইঞ্জিনচালিত বোটে করে রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনার ঘাট থেকে সাঁতারুদের নিয়ে যাওয়া হয় সুবলং বাজারে। দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড় আর মাঝখানে বিস্তৃত জলরাশির মধ্যে সুবলং বাজারে পৌঁছে হালকা শরীরচর্চা শেষে একে একে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে নেমে পড়েন সাঁতারুরা। তাঁদের লক্ষ্য ছিল সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে শহীদ মিনার ঘাটে পৌঁছানো।
সাড়ে ১৩ কিলোমিটারের এই পথ পাড়ি দেওয়া সহজ ছিল না; প্রয়োজন ছিল শারীরিক সক্ষমতার পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের। কখনো দলবদ্ধভাবে, কখনো কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখে সাঁতরে এগিয়েছেন প্রতিযোগীরা। প্রতিযোগিতাটি কেবল দূরত্ব অতিক্রমের লড়াই ছিল না, বরং ছিল সাহস, শারীরিক সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস ও প্রকৃতির সঙ্গে মিতালি গড়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
প্রতিযোগিতায় ৪০ জন নিবন্ধন করলেও অংশ নিয়েছেন ৩২ জন। শেষ পর্যন্ত দুইজন ছাড়া বাকি সবাই পুরো পথ পাড়ি দিতে পেরেছেন। সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দিয়ে প্রথম হয়েছেন বগুড়ার মো. রাব্বি রহমান (৩ ঘণ্টা ২৮ মিনিট ৪০ সেকেন্ড)। দ্বিতীয় হয়েছেন বগুড়ার মো. মেহেদী হাসান, তিনি সময় নিয়েছেন ৩ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট ১৫ সেকেন্ড। আর তৃতীয় হয়েছেন মো. নয়ন ইসলাম, তাঁর সময় লেগেছে ৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট।
প্রথম হওয়া মো. রাব্বি রহমান বলেন, “অংশগ্রহণ করে খুব ভালো লেগেছে। দুইদিকে পাহাড়, মাঝখানে আমরা সাঁতার কেটে এগিয়ে যাচ্ছি। এই ধরনের পরিবেশে সাঁতার কাটতে ভালো লাগে। ভবিষ্যতেও এই আয়োজন বজায় থাকুক। এতে দেশের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি বাইরের দেশের খেলোয়াড়রাও অংশ নেওয়ার আগ্রহ তৈরি হতে পারে।”
আরেক অংশগ্রহণকারী নয়ন ইসলাম বলেন, “অন্যান্য জায়গায় যে স্রোতটা থাকে, আমরা এখানে ওই রকম স্রোতের কোনো কিছু পাইনি। বরঞ্চ সুইমিং করতে একটু কষ্ট হয়ে গেছে, কিন্তু তারপরও ভালো লাগছে। অ্যাডভেঞ্চার তো সবারই ভালো লাগে। প্রকৃতির মধ্যে সাঁতার কাটতে খুব ভালো লেগেছে।”
কাপ্তাই হ্রদ রাঙামাটির মানুষের জীবন-জীবিকা, যোগাযোগ ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ; প্রতিদিন এই হ্রদে চলাচল করে অসংখ্য ইঞ্জিনচালিত বোট ও নৌযান। তবু হ্রদের বিস্তৃত জলরাশিতে দীর্ঘ পথ সাঁতরে পাড়ি দেওয়ার কথা অনেকের কাছেই ভীতিকর, আর পাহাড়ঘেরা গভীর জলরাশিতে সাঁতার কাটার ঝুঁকি ও অনভ্যস্ততা স্থানীয় অনেকের মধ্যে পানিভীতি তৈরি করেছে। আয়োজকদের ভাষ্যে, সেই ভীতি জয় করার বার্তাই বহন করেছে সুবলং চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতা।
প্রতিযোগিতা শেষে দুপুরে রাঙামাটির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, “সাঁতার আসলে একটি প্রতিযোগিতা বা একটি খেলা নয়, এটা একটা লাইফ স্কিল। আজকে এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যে জীবনে বেঁচে থাকার জন্য বা লাইফ স্কিল হিসেবে সাঁতার যেন সবাই শেখে। আর সাঁতারের বা পানির প্রতি যে ভয়, সেটা সবার দূর হয়ে যাক—এটাই আজকের প্রতিপাদ্য।”
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীরা সাঁতার শেখার পাশাপাশি নিয়মিত চর্চায় উৎসাহিত হবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার মতো সাঁতারুও উঠে আসবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।



