ট্রাম্পের ‘শিটহাউস’ মন্তব্যের জবাবে ‘বিশ্বের সুন্দরতম শৌচাগার’ প্রচারণা নরওয়ের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নরওয়েকে ‘শিটহাউস’ (শৌচাগার সমতুল্য) দেশ বলে মন্তব্য করার পর জবাবে অভিনব পথ বেছে নিয়েছে নরওয়ে। দেশটির পর্যটন সংস্থা নরওয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে ছড়িয়ে থাকা ‘বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও চমৎকার শৌচাগারগুলোর’ একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগানের পোর্ট হিউরনে এক রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, নরওয়ে আসলে একটি ‘শিটহাউস’ দেশে পরিণত হয়েছে। নরওয়ে ও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে তাঁর এই অপমানসূচক মন্তব্যের জবাবেই পর্যটন সংস্থার এই প্রচারণা।
চলতি মাসের শুরুতে আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞ নাভি পিল্লাইকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার পর থেকে নরওয়ে ও নোবেল কমিটির ওপর ট্রাম্পের ক্ষোভ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। নোবেল না পাওয়ায় ওসলোর ওপর তিনি হতাশ হন।
এর আগে ২০১৮ সালে ট্রাম্প হাইতি ও আফ্রিকার দেশগুলোকে ‘শিটহোল’ বলেছিলেন; তবে সে সময় তিনি নরওয়ের মতো দেশ থেকে অভিবাসী নেওয়ার পক্ষে ছিলেন। এবার সেই নরওয়েকেই তিনি কটাক্ষ করেছেন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাবে সরকারি সংস্থা ‘ভিজিট নরওয়ে’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘নরওয়ে মেকস শিটহাউসেস গ্রেট অ্যাগেইন’ নামে একটি প্রচারণা শুরু করেছে, যা ভাইরাল হয়েছে। সংস্থাটি লিখেছে, ‘শিটহাউস কান্ট্রি’ নিয়ে কিছু শোরগোল তাদের কানে এসেছে; তারা শুধু বলতে পারে, বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর ও চমৎকার কিছু শৌচাগার সত্যিই তাদের দেশে আছে।
সংস্থাটির তালিকায় থাকা এসব পাবলিক টয়লেট স্থাপত্যশৈলীর দিক থেকে অনন্য। সেগুলো থেকে সমুদ্রপ্রণালি (ফিয়র্ড), পাহাড় ও উত্তর মেরুর আলোকচ্ছটা (নর্দার্ন লাইটস) দেখার সুযোগ মেলে।
ভিজিট নরওয়ের সোশ্যাল মিডিয়া প্রধান ইভজেনিয়া এগোরোভা বার্তা সংস্থা এপিকে হাসতে হাসতে বলেন, জীবন যখন আপনাকে লেবু দেয়, তখন লেবুর শরবত বানিয়ে নিতে হয়—আর বানাতে হয় ভাইরাল কনটেন্ট।
নরওয়ের এই তালিকায় রয়েছে সেনজা দ্বীপের ‘গোল্ডেন টয়লেট’ বা ‘গোল্ডেন দাসেন’। উল্লেখ্য, ট্রাম্প নিজেও আগে স্বর্ণের শৌচাগার নিয়ে বিতর্কে পড়েছিলেন। তাঁর প্রথম মেয়াদে হোয়াইট হাউসের জন্য ভ্যান গঘের একটি চিত্রকর্ম চাওয়া হলে গুগেনহাইম জাদুঘরের কিউরেটর তাঁকে ‘আমেরিকা’ নামের ১৮ ক্যারেট খাঁটি স্বর্ণের তৈরি একটি শৌচাগার ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা ছিল প্রচুর ধনসম্পদের ওপর এক ধরনের ব্যঙ্গ। যুক্তরাজ্যে প্রদর্শনের সময় ২০১৯ সালে সেটি চুরি হয়ে যায়, যা আজও উদ্ধার করা যায়নি।




