যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোটে রেকর্ড: ৫ কোটির বেশি ভোট পড়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগাম ভোটে রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ করবে এমন একাধিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের মধ্যে গত মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় লাখ লাখ বেশি আমেরিকান আগাম ভোট দিতে গেছেন।
ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শনিবার সকাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ৫ কোটি ৫ লাখের বেশি আগাম ভোট পড়েছে। এটি ২০২২ সালের গত মধ্যবর্তী নির্বাচনে পড়া মোট আগাম ভোটের সংখ্যার চেয়ে ইতিমধ্যেই প্রায় ৫০ লাখ বেশি।
ভোটারদের উৎসাহ ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বলে দেখা যাচ্ছে। যেসব অঙ্গরাজ্য দলীয় নিবন্ধনের তথ্য সংগ্রহ করে, সেসব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭ লাখ নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট ভোট দিয়েছেন, যেখানে নিবন্ধিত রিপাবলিকানের সংখ্যা ৭৮ লাখ।
এই দলীয় পরিচয় অবশ্য প্রকৃত ভোটের ইঙ্গিত দেয় না। তবে জরিপগুলোতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ব্যাপক অসন্তোষ এবং সাধারণত রিপাবলিকানরা স্বাচ্ছন্দ্যে জেতে এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও অস্বাভাবিক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
রিপাবলিকানরা সিনেটে ৫৩-৪৭ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রক্ষা করছে। এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে লড়াইয়ের মানচিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে; টেক্সাস, আলাস্কা এমনকি কানসাসের মতো ঐতিহ্যগতভাবে রক্ষণশীল-প্রবণ অঙ্গরাজ্যে জিতে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা।
ডেমোক্র্যাটদের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রে থাকা টেক্সাসে ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ইতিমধ্যে ৭০ লাখের বেশি মানুষ আগাম ভোট দিয়েছেন। এটি ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ওই অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোট দেওয়া মানুষের সংখ্যার চেয়ে ইতিমধ্যে ১৫ লাখ বেশি।
হিউস্টনসহ হ্যারিস কাউন্টিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বুধবার পর্যন্ত ৮ লাখ ৬২ হাজার ৭০০ মানুষ ভোট দিয়েছেন, যেখানে ২০২২ সালের একই সময়ে সংখ্যাটি ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫০০।
ওই কাউন্টি সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে নির্ভরযোগ্যভাবে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দিয়েছে, যদিও ব্যবধান ভিন্ন ভিন্ন হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কামালা হ্যারিস সেখানে ট্রাম্পকে প্রায় ৬ শতাংশ ব্যবধানে হারিয়েছিলেন, আর ডেমোক্র্যাট সিনেট প্রার্থী কলিন অলরেড রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ এগিয়ে ছিলেন।
এ বছর অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটন ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা সিনেট লড়াইয়ে ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকোর মুখোমুখি হচ্ছেন, আর রিপাবলিকান গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ডেমোক্র্যাট জিনা হিনোজোসার বিরুদ্ধে পুনর্নির্বাচন চাইছেন।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে ডেমোক্র্যাটরা কোনো রাজ্যব্যাপী নির্বাচনে জেতেনি এমন একটি অঙ্গরাজ্য রক্ষায় লড়াইরত রিপাবলিকানদের পেছনে সিনেট লড়াইয়ে শত শত কোটি ডলার ঢুকেছে। ট্রাম্প এ সপ্তাহে টেক্সাস সফর করেছেন, এক মাসে এটি তাঁর তৃতীয় সফর।
অন্যান্য হাড্ডাহাড্ডি সিনেট লড়াইয়ের অঙ্গরাজ্যগুলোতেও আগাম ভোট বেড়েছে বলে এপি জানিয়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প প্রায় ১৮ শতাংশ ব্যবধানে জিতেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনায়; সেখানে ২০২২ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের তুলনায় আগাম ভোট বেড়েছে ৮৩ শতাংশ।
কানসাসে, যেখানে সাধারণত নির্ভরযোগ্য রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যে আরেকটি অস্বাভাবিক হাড্ডাহাড্ডি সিনেট লড়াই চলছে, আগাম ভোট বেড়েছে ৩৪ শতাংশ; মেইনে বেড়েছে ৪৪ শতাংশ এবং আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ের অঙ্গরাজ্য মিশিগানে বেড়েছে ৩২ শতাংশ।
এই মধ্যবর্তী নির্বাচন ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের গঠন নির্ধারণ করবে। খাবার, জ্বালানি ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের বাড়তি দাম, ইরান যুদ্ধ এবং সরকারি দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগ ভোটের পটভূমি হিসেবে রয়েছে।




