মুরগির খাবারের ছদ্মবেশে জন্ম, এখন হ্যালোইনের সবচেয়ে বিতর্কিত মিষ্টি ক্যান্ডি কর্ন

এবারের হ্যালোইনে যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ট্রিক-অর-ট্রিটের ঝুড়িতে ক্যান্ডি কর্ন ওঠার সম্ভাবনা প্রবল। তবে বিতর্কিত এই ত্রিভুজ মিষ্টি সব সময় হ্যালোইনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না; একসময় এর পরিচয় ছিল একেবারেই আলাদা।
ক্যান্ডি কর্নের বয়স এক শ বছরের বেশি। ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৮৮০-এর দশকে ফিলাডেলফিয়ায় ওয়ান্ডারলে ক্যান্ডি কোম্পানির কর্মী জর্জ রেনিঞ্জার এই মিষ্টি আবিষ্কার করেন।
সে সময় মিষ্টি নির্মাতাদের মধ্যে প্রকৃতি থেকে অনুপ্রাণিত আকৃতির মিষ্টি তৈরির চল ছিল। সেই ধারা মেনেই ক্যান্ডি কর্ন বানানো হয় ভুট্টার দানার আকৃতিতে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুরুতে এটি বাজারে আসে নকল মুরগির খাবার হিসেবে।
মিষ্টিটির তিন রঙের স্তরবিন্যাসই এর উৎপাদনকে কঠিন করে তুলেছিল। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি না থাকায় প্রতিটি স্তর আলাদাভাবে তৈরি করতে হতো, ফলে প্রক্রিয়াটি ছিল সময়সাপেক্ষ ও ঝামেলার।
এই কারণেই ক্যান্ডি কর্ন হয়ে ওঠে একটি মৌসুমি পণ্য। ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, এর উৎপাদন শুরু হতো আগস্টের শেষ দিকে এবং চলত পুরো শরৎজুড়ে।
বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে আরেকটি কোম্পানি গোয়েলিৎজ কনফেকশনারি ক্যান্ডি কর্ন বিক্রি শুরু করে। কোম্পানিটি এখন জেলি বেলি ক্যান্ডি কোম্পানি নামে পরিচিত। মিষ্টিটি তারা আবিষ্কার না করলেও বড় পরিসরে উৎপাদন এবং হ্যালোইনের পণ্য হিসেবে বিপণনের কৃতিত্ব সাধারণত তাদেরই দেওয়া হয়।
ফারমার্স আলমানাকের হিসাবে, প্রতি বছর প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড ক্যান্ডি কর্ন উৎপাদিত হয়। এত জনপ্রিয়তার পরও মিষ্টিটি নিয়ে মতভেদ তীব্র; কেউ একে ভীষণ ভালোবাসেন, কেউ আবার দৃঢ়ভাবে বিরোধী।
সামাজিক মাধ্যম রেডিটে এক ভক্ত লিখেছেন, ট্রিক-অর-ট্রিটে রিসেস পিসেসের বাইরে একমাত্র এই মিষ্টিটিই তিনি পেতে আশা করেন। আরেকজন বলেছেন, মিষ্টিটি তার ভালো লাগে, তবে মুঠোখানেকের বেশি খাওয়া যায় না, কারণ এর মিষ্টতা অসহ্য হয়ে ওঠে। উল্টো দিকে আরেকজনের ভাষায় এটি ‘জঘন্য’, স্বাদ চকের মতো, আর গঠন ও রং কোনোটাই তার পছন্দ নয়।
দোকানের তাকের বাইরেও এবার ক্যান্ডি কর্নের বিস্তার ঘটেছে। এ শরতে ক্যান্ডি কর্নের বড় উৎপাদক ব্র্যাকস বাজারে এনেছে মিষ্টিটির খাওয়ার অযোগ্য একটি সংস্করণ—সীমিত সংস্করণের সুগন্ধি ‘ওড টু ক্যান্ডি কর্ন’। মূল কোম্পানি ফেরারার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, এই সুগন্ধির গন্ধ হুবহু মিষ্টিটির স্বাদের মতো।




