পোল্যান্ডের সাংবিধানিক আদালত সংস্কারে অনড় তুস্ক: ‘কিছু বিষয়ে আপস নয়’, বিক্ষোভের মধ্যেই টিভি ভাষণে হুঁশিয়ারি

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড তুস্ক দেশটির সাংবিধানিক আদালতের বিতর্কিত পুনর্গঠন শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন এবং ঘোষণা দিয়েছেন, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে কোনো আপস হতে পারে না। শনিবার রাতে প্রাইম-টাইম টেলিভিশন ভাষণে বিক্ষোভ উপেক্ষা করে অনড় অবস্থান নেন তিনি। রাতভর বিক্ষোভে আদালত ভবন রক্ষায় দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তুস্ক বলেন, বছরের পর বছর রাজনৈতিক বিরোধে পঙ্গু হয়ে থাকা ট্রাইব্যুনালকে পুনরুদ্ধারে এই পুনর্গঠন অপরিহার্য।
এক দশকের বেশি সময় ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এই আদালত ডানপন্থি ল অ্যান্ড জাস্টিস (পিআইএস) দলের আট বছরের শাসনামলে দলটি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে আইনের শাসন নিয়ে সংঘাতের কেন্দ্রে ছিল।
২০২৩ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর মধ্য-ডানপন্থি তুস্ক বিচার বিভাগীয় ওই পরিবর্তনগুলো উল্টে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু বিস্তৃত ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন বিরোধী-ঘনিষ্ঠ প্রেসিডেন্টদের কারণে তাঁর কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে প্রেসিডেন্ট কারোল নওরকি সংসদে অনুমোদিত পাঁচজন বিচারককে শপথ পড়াতে অস্বীকার করেন।
শুক্রবার সংকট আবার চরমে ওঠে, যখন সরকার-সমর্থিত একদল বিচারক ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন, পিআইএস-নিয়োগপ্রাপ্ত প্রধান বিচারক ও তাঁর ডেপুটিকে স্থগিত করেন এবং রাস্তায় বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটান।
ওই পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি দিয়ে তুস্ক বলেন, পিআইএসের চাপিয়ে দেওয়া রূপে আদালতটি যে প্রকৃত আদালত ছিল না, তা নিয়ে কখনো সন্দেহ ছিল না। এ ক্ষেত্রে তিনি ইউরোপীয় ট্রাইব্যুনালগুলোর প্রতিকূল রায়ের উল্লেখ করেন।
তিনি বিরোধীদের ক্ষোভকে তুলনা করেন এমন এক চোরের সঙ্গে, যে এক বৃদ্ধা নারীর হ্যান্ডব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায় এবং ধরা পড়লে চিৎকার করে বলে সে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।
তুস্ক বলেন, জিনিসগুলোকে তাদের নামেই ডাকা যাক: বছরের পর বছর ধরে পোল্যান্ডে এমন সংগঠন ও রাজনীতিক রয়েছেন, যারা গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ধ্বংস করতে চান। এটি কাকতালীয় নয় যে তারা বিশ্বজুড়ে রাশিয়া-পন্থি শক্তিগুলোর মধ্যে সমর্থন পান। পরে তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বিরোধীদের সঙ্গে এই পরিবর্তন নিয়ে ক্ষোভে যোগ দিয়েছেন, ওয়ারশকে সাংবিধানিক অভ্যুত্থান ও রক্ষণশীলদের হয়রানির অভিযোগ এনেছেন। তুস্ক বলেন, আর সবকিছু পরিষ্কার।
তিনি বিরোধী-ঘনিষ্ঠ নওরকিরও সমালোচনা করেন শুক্রবার রাতের বিক্ষোভে যোগ দেওয়া এবং জোর করে আদালত ভবনে ঢুকে হস্তক্ষেপ করার জন্য। তুস্ক বলেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো রাজনীতিক আদালতে ঢুকে আদেশ দিতে বা বিচারকদের ভয় দেখাতে পারেন না—প্রেসিডেন্টও নন। তিনি বলেন, আমরা পোলরা একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গড়তে এত ভালোভাবে সফল হয়েছি যে এখন আত্মসমর্পণ করা যায় না।
তুস্ক বলেন, আদালতের নিরাপত্তা ও কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। আর তিনি সে দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা রাখেন।
এই সংঘাত আগামী বছরের সংসদ নির্বাচনের আগে যুদ্ধক্ষেত্রের রেখা টেনে দিয়েছে। জরিপগুলো তুস্কের বিস্তৃত জোট ও জাতীয়তাবাদী ডানদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তবে আদালতে সরকারের পদ্ধতিগত কৌশল আইনসম্মত কি না তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বিভক্ত রয়েছেন। পোল্যান্ডের হেলসিঙ্কি ফাউন্ডেশন ফর হিউম্যান রাইটস শনিবার বলেছে, সাময়িক স্থগিতাদেশের আইনি ভিত্তি প্রশ্নসাপেক্ষ এবং এটি আদালত পুনরুদ্ধারে অবদান রাখবে না।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি স্বীকার করেছেন, আদালতের বাইরের ঘটনাগুলো মার্জিত ছিল না, কিন্তু জোর দিয়ে বলেছেন, বিকল্প ছিল পোল্যান্ডকে প্রেসিডেন্টশাসিত প্রজাতন্ত্রে অসাংবিধানিকভাবে রূপান্তর মেনে নেওয়া। শনিবার নওরকি বিভিন্ন দলের সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক আলোচনা করেন, তবে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তাঁর জ্যেষ্ঠ সহযোগী জবিগনিয়েভ বোগুৎস্কি তুস্কের ভাষণের জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে প্যাথলজিক্যাল মিথ্যাবাদী বলে আখ্যা দেন, যিনি পোল্যান্ডে আগুন ধরিয়ে দিচ্ছেন।



