ডারউইনের আন্তর্জাতিক লাকসা উৎসবে সেরার মুকুট কম্বোডীয় ক্যাফে অ্যাংকর টেকঅ্যাওয়ের, বিচারকদের সর্বসম্মত রায়

অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনের মানুষ লাকসাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেন। মসলাদার, নারকেলসমৃদ্ধ কারি স্যুপ নুডলসের এই পদটি তাঁরা সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবার—সব বেলাতেই খান। মিন্ডিল বিচ, প্যারাপ ও র্যাপিড ক্রিকের মতো বিখ্যাত বাজারে প্রিয় স্টল ও বিক্রেতাদের কাছে তাঁরা নিয়মিত যান, আর টেকঅ্যাওয়ে কিনতে গেলে অনেকে নিজের পাত্রও সঙ্গে নিয়ে যান।
সবচেয়ে বড় প্রমাণ, প্রতি অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উত্তরের রাজধানী ডারউইনে বসে ডারউইন আন্তর্জাতিক লাকসা উৎসব—পুরো এক মাসের এই আয়োজন বহুসংস্কৃতির উদ্যাপন এবং শহরটির অনানুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত ‘স্পিরিট ডিশ’-এর উৎসব।
২০১৯ সালে প্রথম উৎসবে ৩৩টি ভেন্যু মাসজুড়ে লাকসার বিশেষ পদ পরিবেশন করেছিল। এ বছর উৎসবে ছিল ৫০টি ভিন্ন লাকসা এবং তার সঙ্গে ১৭৫টি লাকসা-অনুপ্রাণিত সৃষ্টি—চিংড়ির টোস্ট ও লাকসা টোস্টি থেকে শুরু করে ককটেল ও কোল্ড ফোম কফি পর্যন্ত।
ভেন্যুগুলো প্রতিযোগিতা করে ‘গোল্ডেন বোল’ পুরস্কারের জন্য, যা উৎসবের সেরা লাকসাকে দেওয়া হয়; বিচারকেরা পরিচয় গোপন রেখে ভেন্যুগুলোতে গিয়ে খাবার যাচাই করেন।
এ বছর বাইরের দৃষ্টিভঙ্গি দিতে অতিথি বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান খ্যাতনামা শেফ লুক নগুয়েন ও জুন্দা খু—যথাক্রমে ভিয়েতনামি ও মালয়েশীয় ঐতিহ্যের অস্ট্রেলেশীয় রাঁধুনি। প্যানেলের তৃতীয় সদস্য ছিলেন স্থানীয় সামান্থা বেনেট, দ্য লিয়া হোটেলের নির্বাহী শেফ।
মঞ্চে রান্নার ফাইনাল দেখতে জড়ো হন ৫০০ মানুষ। ফাইনালিস্টদের মধ্যে ছিলেন সিঙ্গাপুরে জন্ম নেওয়া জুলস মৌ, যাঁর কপি স্টপ ২০২৫ সালে গোল্ডেন বোল জিতেছিল, আর সহ-ভেন্যু মাকান স্টপের লাকসা কুকিজ জিতেছিল জনতার ভোটের ‘লাকসা ইনস্পায়ার্ড-বাই’ পুরস্কার। আরেক ফাইনালিস্ট চিয়েটা আউচের অ্যাংকর টেকঅ্যাওয়েও ২০২৫ সালে শীর্ষ তিনে ছিল; সিয়েম রিপে জন্ম নেওয়া আউচ তাঁর লাকসা বানান ক্রোয়েং নামের হালকা ও সুগন্ধি খমের মসলা-পেস্ট দিয়ে। তৃতীয় ফাইনালিস্ট ফো র্যাপিড ক্রিকের টুলি লিচ প্রথমবারের রেস্তোরাঁ মালিক—সঙ্গী লিন দোকে নিয়ে তিনি স্বাস্থ্যসেবা ও নার্সিংয়ের পেশা ছেড়ে ক্যাফেটি নিয়েছেন, আর তাঁর লাকসার রেসিপি এসেছে বাবা কেলভিনের কাছ থেকে, যিনি পেস্টের লেমনগ্রাস, বেসিলসহ নানা উপকরণ নিজেই চাষ করেন।
ফাইনালের ২০ মিনিটে পেস্ট ভেজে ঝোল বানানোর সময় ছিল না, তাই ফাইনালিস্টরা আগে থেকে তৈরি স্টক, টপিংস ও স্থানীয়ভাবে তৈরি কংস গমের নুডলস দিয়ে বাটি সাজান অন্ধ স্বাদ-পরীক্ষার (ব্লাইন্ড টেস্টিং) জন্য। কৌতুকশিল্পী অ্যামি হেদারিংটন দর্শকদের মাতিয়ে রাখেন।
বিচারকেরা যখন বাটিগুলোর স্বাদ নিচ্ছিলেন, গরম ও আর্দ্র আবহে দ্বিতীয় বাটিতে পৌঁছেই জুন্দা খু হেডসেট মাইকে বলে ওঠেন, ‘আমি প্রচণ্ড ঘামছি... মঞ্চে কিছু টিস্যু পাওয়া যাবে?’ ফাইনালিস্ট আউচ তখন বলেন, তিনি খুব নার্ভাস বোধ করছেন।
কপি স্টপ এবারও জনতার ভোটের দুটি পুরস্কার—পিপলস চয়েস লাকসা ও লাকসা ইনস্পায়ার্ড-বাই—একসঙ্গে জিতে নেয়। তবে বড় পুরস্কার গোল্ডেন বোলে বিচারকদের রায় ছিল সর্বসম্মত: সব বিচারকের স্কোরশিটে মসলা ও গভীরতার জন্য এক নম্বরে ছিল একটিই বাটি—অ্যাংকর টেকঅ্যাওয়ের লাকসা। লুক নগুয়েন বলেন, ‘আপনি আপনার খাবারে যে সময়, নিষ্ঠা ও আবেগ দিয়েছেন, আমরা তার সবটাই স্বাদে পেয়েছি।’ নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আউচ আনন্দে লাফিয়ে ওঠেন, দুই হাতে মুখ ঢেকে ফেলেন।



