ইয়েমেনে হুতিদের হেফাজতে জাতিসংঘ কর্মীর মৃত্যু, তদন্তের দাবি জাতিসংঘের
ইয়েমেনে হুতিদের আটক অবস্থায় এক কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ। নিহত মোহাম্মদ এল-শামি ইয়েমেনে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) কর্মী ছিলেন।
জাতিসংঘ শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এল-শামি এক মাসেরও বেশি সময় আগে মারা গেছেন, কিন্তু তাঁর পরিবারকে সম্প্রতি বিষয়টি জানানো হয়েছে।
হুতিরা তিনি কীভাবে মারা গেছেন তা জানায়নি। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, তাঁর পরিবার সত্য জানার অধিকার রাখে।
মানবাধিকার প্রধান হুতি কর্তৃপক্ষের কাছে পূর্ণ স্বচ্ছতার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি এল-শামির মৃত্যুর ঘটনায় জরুরি, স্বাধীন ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।
এল-শামি ২০২৪ সালের জুন থেকে হুতিদের হেফাজতে অন্যায়ভাবে আটক ছিলেন। সে সময় তিনি এবং জাতিসংঘ ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ৬০ জনের বেশি মানুষ আটক হন; তাঁদের বিরুদ্ধে ‘আমেরিকান-ইসরায়েলি গুপ্তচর নেটওয়ার্কের’ অংশ হওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
তুর্ক বলেছেন, এল-শামির সঙ্গে আটক ওএইচসিএইচআরের আরও সাত কর্মী এখনো বন্দী থাকায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি আবারও তাঁদের অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস শনিবার পৃথক এক বিবৃতিতে বলেছেন, এল-শামির মৃত্যুতে তিনি মর্মাহত। তিনিও তদন্তের দাবিতে তুর্কের আহ্বানের প্রতিধ্বনি করেছেন।
গুতেরেস আরও বলেছেন, তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘ ওই গোষ্ঠীর কাছে জরুরিভাবে জবাব খুঁজছে।
এল-শামি হুতিদের আটক অবস্থায় মারা যাওয়া দ্বিতীয় জাতিসংঘ কর্মী। এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির এক কর্মী একইভাবে মারা যান।
এল-শামিসহ মোট ৭২ জন জাতিসংঘ কর্মী ও বেসরকারি সংস্থার কর্মীকে হুতিরা আটক করেছে।
কর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইয়েমেনের হুতি-নিয়ন্ত্রিত এলাকার কিছু অংশে কার্যক্রম স্থগিত করে জাতিসংঘ। ইরান-সমর্থিত এই গোষ্ঠী এর আগে কয়েকজন আটক ব্যক্তিকে টেলিভিশন চ্যানেলে হাজির করে পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থা ও ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করেছে।
গত ৬ অক্টোবর জাতিসংঘ জানিয়েছিল, হুতিদের হাতে অন্যায়ভাবে আটক থাকা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির এক কর্মী মুক্তি পেয়েছেন।


