অবরোধ শিথিলের দিনেই সাজেকে আরেক সংগঠনের অবরোধ, খাদ্যসংকটে স্থানীয়রা

সাজেক সড়কে টানা ১০ দিনের অবরোধের পর রবিবার (১ নভেম্বর) ১২ ঘণ্টার জন্য কর্মসূচি শিথিল করেছিল সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। কিন্তু একই দিনে একই সড়কে আরেক সংগঠনের অবরোধের কারণে সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি। ফলে অবরোধ শিথিলের দিনেও কার্যত বন্ধ রয়েছে সাজেক সড়কে যান চলাচল; এতে সাজেকে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সংগঠন দুটির ডাকে তৃতীয় দফায় চলা টানা ১০ দিনের অবরোধ শেষে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কর্মসূচি শিথিল করা হয়। সাজেকে চলমান খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংগঠন দুটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ২ নভেম্বর থেকে আবারও অবরোধ কর্মসূচি চলবে বলে জানান তিনি।
এদিকে একই দিনে পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির ডাকা ১২ ঘণ্টার অবরোধের কারণে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা থেকে সাজেকের উদ্দেশে কোনো যানবাহন ছেড়ে যায়নি। মাহিন্দ্রা ও জিপচালকেরা যান চলাচল বন্ধ রেখে সড়কে অবস্থান নেন। ফলে অবরোধ শিথিলের সিদ্ধান্তের পরও সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিন্দু লাল চাকমার পরিচয়ে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সাজেকে সহিংস সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, ভাইবোনছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সশস্ত্র মহড়া এবং পর্যটকদের জিম্মি করে হামলার প্রতিবাদে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত দিনব্যাপী অবরোধের ডাক দেওয়া হয়েছে।
সাজেকের একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারী মো. আব্দুস কুদ্দুস বলেন, ‘একদিনের জন্য অবরোধ শিথিল করায় অন্তত আমাদের মনে আশার সঞ্চার হয়েছিল। কিন্তু আজ আবার আরেকটি সংগঠনের অবরোধের কারণে কোনো গাড়ি সাজেকে আসেনি।’
তিনি বলেন, ‘এখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ সবকিছু বাইরে থেকে আনতে হয়। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত কলার থোড় ও সবজি খেয়ে দিন পার করছি। ভোজ্যতেলের অভাবে সেগুলোও সিদ্ধ করে খেতে হচ্ছে। সাজেকে পর্যটক না থাকায় স্থানীয়রা তাঁদের উৎপাদিত ফসলও বাজারে আনছেন না।’
অবরোধকারী সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন ইউপিডিএফের দুটি ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত। সংগঠন দুটির অভিযোগ, সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্যরা সাজেকের বিভিন্ন গ্রামে সশস্ত্র অবস্থান নিয়েছেন। এতে আতঙ্কে রয়েছেন গ্রামবাসী।
সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে গ্রামগুলো থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর দাবিতে অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠন দুটি।
এ পরিস্থিতিতে গত ২৬ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজারে সংগঠন দুটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ির দুই সংসদ সদস্য এবং জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বৈঠকে পাঁচটি দাবির মধ্যে চারটি বিষয়ে সমঝোতা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সরানোর বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।
ফলে সাজেকের চলমান সংকট এখনো কাটেনি। বাবুধন চাকমার ঘোষণা অনুযায়ী দাবি আদায় না হলে আগামীকাল থেকে অবরোধ আবার শুরু হবে; অন্যদিকে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের সংকটে থাকা সাজেকবাসীর দুর্ভোগ কবে শেষ হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।



