মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভে স্থবির জনজীবন, বন্ধ মেট্রোরেলের তিন স্টেশন
রাজধানীর মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও সংঘর্ষের প্রভাব পড়েছে পুরো এলাকার জনজীবনে। রোববার (১ নভেম্বর) সকাল থেকে প্রধান সড়কগুলো অবরুদ্ধ থাকায় বন্ধ হয়ে গেছে যান চলাচল। বিক্ষোভের মধ্যে মিরপুরে মেট্রো স্টেশনের নিচে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সব মিলিয়ে মিরপুরের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
সকাল থেকে মিরপুর-১০, ১১, ১২ ও ১৪ নম্বরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রধান সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুরের দিকে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে নিরাপত্তার স্বার্থে মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। ফলে সড়ক ও রেল—দুই পথেই যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।
মিরপুরের বিভিন্ন আবাসিক এলাকার শাখা সড়কের প্রবেশমুখে নিরাপত্তা গেট থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। আন্দোলনের কারণে গেটগুলো তালাবদ্ধ করে রাখায় রিকশা, মোটরসাইকেলসহ কোনো যানবাহন নিয়ে এলাকায় প্রবেশ করা যাচ্ছে না। কেবল পকেট গেট দিয়ে হেঁটে যাতায়াত করতে পারছেন পথচারীরা। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতেও অনেককে বিকল্প পথ খুঁজতে হচ্ছে।
বিশেষ করে স্কুলে থাকা সন্তানদের আনতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন অভিভাবকেরা। মিরপুর-১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড এলাকার হিড স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়েকে আনতে বের হয়েছেন মোহাম্মদ শাওন। কিন্তু যানবাহন নিয়ে যেতে না পেরে তাঁকে হেঁটেই স্কুলের উদ্দেশে রওনা হতে হয়েছে।
মো. শাওন নামে ওই অভিভাবক বলেন, ‘১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে হিড স্কুলে আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। ওকে আনতে যাচ্ছি। রিকশা নিয়ে যেতে পারছি না। তাই হেঁটে রওনা দিয়েছি। স্কুলে ফোন দিচ্ছি, কেউ ফোন ধরছে না। কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। এখন বাধ্য হয়ে সরাসরি গিয়ে মেয়েকে নিয়ে আসব।’ শুধু শাওন নন, আন্দোলন ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেক অভিভাবকই সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।
এদিকে সড়কপথ বন্ধ থাকায় অনেক যাত্রী মেট্রোরেলের ওপর নির্ভর করতে চাইলেও মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী স্টেশন বন্ধ থাকায় সেখান থেকেও ফিরে যেতে হচ্ছে তাঁদের। মিরপুর-১২ থেকে ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজারের উদ্দেশে হেঁটে রওনা হওয়া বেসরকারি চাকরিজীবী আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। ভেবেছিলাম মেট্রো দিয়ে চলে যাব, এসে দেখি মেট্রো স্টেশনও তালা মারা। এখন এই রোদের মধ্যে হেঁটে যাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
স্টেশনের কাছে আটকে পড়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী রাইসা আক্তার বলেন, ‘নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করা হয়েছে বুঝলাম, কিন্তু আমাদের মতো সাধারণ মানুষের ভোগান্তির তো কোনো শেষ নেই। পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলাম, এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।’
মিরপুরের বিকল্প সড়ক ও ভেতরের গলিগুলোতেও যানবাহনের চাপ বেড়েছে। রিকশা ও মোটরসাইকেলের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে যানবাহনের অপেক্ষা করছেন। তবে পরিস্থিতির কারণে অনেক এলাকায় কোনো যানবাহনই পাওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মাহফুজল হক বকশী বলেন, ‘রাস্তায় আন্দোলন হয়েছে, ফলে ব্যাপকভাবে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় ব্লকেড ছিল। এর ফলে যান চলাচল হয়নি। রাস্তায় প্রচুর চাপ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।’
কর্মস্থলে যাওয়া, জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া কিংবা স্কুল থেকে সন্তানকে নিয়ে আসা—সব ক্ষেত্রেই ভোগান্তিতে পড়েছেন মিরপুরের বাসিন্দারা। পরিস্থিতি কখন স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন তাঁরা।



