আশুলিয়ায় বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ফের সড়ক অবরোধ, অধিকাংশ কারখানায় ছুটি: পরে যান চলাচল স্বাভাবিক

বেতন বৃদ্ধি ও বিভিন্ন দাবিতে আশুলিয়ায় বেশ কিছু পোশাক কারখানার শ্রমিকরা রোববার ১ নভেম্বরও কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় অধিকাংশ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
রোববার সকালে নিট এশিয়া, আল-মুসলিম, সাবিহা অ্যাপারেলস, টাউজার লাইন ও এস ২১-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ কারখানার শ্রমিকরা প্রথমে নিজ নিজ কর্মস্থলে কর্মবিরতি শুরু করেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নরসিংহপুর ও আশপাশের এলাকার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন।
সাড়ে ১১টার পর শ্রমিকরা আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের ইউনিক, নরসিংহপুর এলাকায় অবস্থান নেন। শ্রমিকদের এই সড়ক অবস্থানের কারণে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল মহাসড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার যানের যাত্রীরা দুর্ভোগে পড়েন।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাড়ইপাড়া থেকে ইপিজেড, ইপিজেড এলাকার বাইরের কারখানাগুলোসহ বাইপাইল, ইউনিক, জামগড়া, নরসিংহপুর ও জিরোবো এলাকার প্রায় সব কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সাভার এলাকার পরিস্থিতি অন্যান্য দিনের মতো স্বাভাবিক রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢাকা জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতির আলোকে প্রায় অধিকাংশ কারখানা আজ ছুটি ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে। কিছু কারখানা চালু থাকলেও শ্রমিকরা এসে ছুটি দিতে বাধ্য করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
শিল্প পুলিশ-১-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপস্ এন্ড ইন্টেলিজেন্স) সোহেল আহমেদ জানান, সকাল ৬টা থেকে তাদের পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন ছিল এবং সার্বিক পরিস্থিতি ভালোই ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিট এশিয়া কারখানা বন্ধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কিছু শ্রমিক শারমিনের সামনে জটলা তৈরি করলেও শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণ ছিলেন এবং পুলিশ দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে পরিস্থিতি শান্ত করে।
সোহেল আহমেদ জানান, কর্তৃপক্ষ একপর্যায়ে শারমিন গার্মেন্টসও বন্ধ ঘোষণা করলে শ্রমিকরা যার যার গন্তব্যে চলে যান এবং রাস্তা পরিষ্কার করা হয়।
পরে অনন্ত গার্মেন্টসের কিছু বিক্ষিপ্ত শ্রমিক ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে রাস্তায় নামার চেষ্টা করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলে। কারখানা কর্তৃপক্ষ আগে অনন্ত গার্মেন্টস বন্ধ ঘোষণা করায় বুঝিয়ে বলার পর বিক্ষিপ্ত শ্রমিকরা শান্তিপূর্ণভাবে যার যার গন্তব্যে চলে যান।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহেল আহমেদ আরও জানান, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ও যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে। বর্তমানে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে এবং যান চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে।
তবে ঠিক কতটি কারখানা আজ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে, কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে যোগাযোগ করে তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।



