বোলার হান্টে তরুণ স্পিনারদের দেখে মুগ্ধ মুশতাক, তিন সংস্করণের স্পিনার গড়াই লক্ষ্য

দেশজুড়ে প্রতিভাবান বোলার খুঁজতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) উদ্যোগ ‘রবি বোলার হান্ট’ নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ। এই আয়োজন থেকে বেশ কয়েকজন প্রতিভাবান তরুণ স্পিনার পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১ নভেম্বর) গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তানের সাবেক এই লেগ স্পিনার বলেন, শুধু মিস্ট্রি স্পিনার নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন সংস্করণেই কার্যকর হতে পারবেন এমন ভালো ও ধারাবাহিক স্পিনার গড়ে তোলাই তার লক্ষ্য। এ জন্য তরুণদের বোলিংয়ের মৌলিক বিষয় ও সঠিক প্রক্রিয়া শেখানোর ওপর তিনি জোর দিচ্ছেন।
বিসিবি ও মোবাইল অপারেটর রবি আজিয়াটার যৌথ উদ্যোগ ‘রবি বোলার হান্ট ২০২৬’ অক্টোবরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত হয়। এই কার্যক্রমে দেশি কোচ ও সাবেক ক্রিকেটারদের পাশাপাশি যুক্ত ছিলেন মুশতাক আহমেদ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের সাবেক পেসার কোরি কলিমোরের মতো বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
আয়োজন নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে মুশতাক বলেন, ‘এটি সত্যিই দারুণ একটি উদ্যোগ। আমি এখানে অনেক তরুণ, প্রতিভাবান স্পিনার দেখতে পাচ্ছি। এর কৃতিত্ব বিসিবি ও স্পন্সর রবির প্রাপ্য। এখান থেকে যদি আমরা কয়েকজন ভালো স্পিনার বেছে নিতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ দলের স্পিন বিভাগের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল হবে, ইনশাআল্লাহ।’
তরুণদের কী শেখাচ্ছেন—এমন প্রশ্নে মুশতাক বলেন, শুরুতেই তাদের বোলিংয়ের মৌলিক বিষয়গুলো শক্তিশালী করতে চান তিনি। তার মতে, সহজ ও প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ভালোভাবে আয়ত্ত করতে পারলে একজন বোলার দীর্ঘদিন ধারাবাহিকভাবে পারফর্ম করতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের একদম মৌলিক বিষয়গুলো শেখানোর চেষ্টা করছি। খুব সহজ কিছু বিষয়, যেগুলো মানুষ অন্য যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি সময় মনে রাখতে পারে। একজন স্পিনার হিসেবে তাদের যে মৌলিক বিষয়গুলো প্রয়োজন, সেটাই আমরা শেখাচ্ছি।’
বোলার হান্টে দেখা তরুণদের মধ্যে সুন্দর বোলিং অ্যাকশন, বল ঘোরানোর দক্ষতা ও স্বাভাবিক প্রতিভা চোখে পড়েছে বলে জানান মুশতাক। তবে শুধু প্রতিভা থাকলেই হবে না, সঠিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তাদের এগিয়ে নিতে হবে বলে মনে করেন তিনি। এই প্রক্রিয়া ঠিকভাবে আয়ত্ত করতে পারলে টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে ও টেস্ট—তিন সংস্করণেই খেলার মতো স্পিনার তৈরি করা সম্ভব বলে তিনি জানান।
বিশেষ কোনো প্রতিভা চোখে পড়েছে কি না জানতে চাইলে মুশতাক জানান, বেশ কয়েকজনকে তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। বোলিং অ্যাকশনসহ অন্যান্য দিক আরও ভালোভাবে যাচাই-বাছাইয়ের পর সেরাদের বেছে নেওয়া হবে। এরই মধ্যে কয়েকজন ভালো মিস্ট্রি স্পিনারও নজরে এসেছেন বলে তিনি জানান।
তবে মুশতাকের কাছে মিস্ট্রি স্পিনার খুঁজে পাওয়াই একমাত্র লক্ষ্য নয়। তিনি বলেন, ‘মিস্ট্রি স্পিনার গুরুত্বপূর্ণ, তবে আমাদের প্রয়োজন একজন ভালো স্পিনার। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অনেক বাঁহাতি ও অফ স্পিনার সফল হচ্ছেন। তাই আমরা যেকোনো ভালো স্পিনারকেই খুঁজছি, শুধু নির্দিষ্ট কোনো মিস্ট্রি স্পিনার নয়।’
সাদা বলের ক্রিকেটে মিস্ট্রি স্পিনাররা বেশি কার্যকর হতে পারেন বলে মনে করেন মুশতাক। তবে টেস্ট ক্রিকেটের জন্য প্রয়োজন এমন স্পিনার, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো লাইন ও লেংথে বল করতে পারবেন। তার মতে, স্পিনার, ব্যাটার কিংবা পেসার—যে ভূমিকাতেই কেউ খেলুন না কেন, মৌলিক বিষয়গুলো শক্তিশালী না হলে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স সম্ভব নয়।
‘রবি বোলার হান্ট ২০২৬’ গত ১৫ সেপ্টেম্বর মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। সিলেট থেকে শুরু হয়ে দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বাছাই কার্যক্রম চলে। ঢাকায় দুটি ট্রায়ালসহ মোট নয়টি ভেন্যুতে এই আয়োজন করা হয়। নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগের পেসার ও স্পিনারদের জন্যই অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল।
এই উদ্যোগে দেশজুড়ে ২৫ হাজারের বেশি নিবন্ধন জমা পড়ে। বাছাই কার্যক্রম শেষে ১৪৩ জন সম্ভাবনাময় বোলারকে চিহ্নিত করা হয়েছে, তাদের মধ্যে ৫৬ জন পেসারকে বিশেষায়িত ক্যাম্পের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে। চূড়ান্ত বাছাই শেষে ১২ জন বোলারকে বিসিবির হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) কর্মসূচির আওতায় উন্নত প্রশিক্ষণ ও পরিচর্যার জন্য নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে বোলার হান্টের বিভিন্ন উদ্যোগ থেকে উঠে এসেছেন পেসার রুবেল হোসেন, ইবাদত হোসেন ও রিশাদ হোসেনের মতো ক্রিকেটাররা।

