সৌদি রুটে ১৫৯ ফ্লাইটে বিঘ্ন, ভোগান্তিতে ২২ হাজার ৯১৭ যাত্রী
সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দরে ফ্লাইট পরিচালনায় সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির আকাশপথে যোগাযোগে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। এতে মোট ১৫৯টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে এবং ভোগান্তিতে পড়েছেন ২২ হাজার ৯১৭ জন যাত্রী।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ফ্লাইট ম্যানেজমেন্ট কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার সাকিব চৌধুরী রোববার (১ নভেম্বর) এ তথ্য জানান। তাঁর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী প্রভাবিত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সরাসরি ফ্লাইট ৮২টি এবং ট্রানজিট ফ্লাইট ৭৭টি।
সরাসরি ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ওপর। প্রতিষ্ঠানটির ৩৭টি ফ্লাইট প্রভাবিত হয়েছে। এ ছাড়া সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের ২০টি, রিয়াদ এয়ারের ১৬টি এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বিঘ্ন শুধু সরাসরি ফ্লাইটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর হয়ে যাতায়াত করা ট্রানজিট যাত্রীরাও সমস্যায় পড়েছেন। প্রভাবিত ৭৭টি ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ভারতের ইন্ডিগোর ফ্লাইট সবচেয়ে বেশি, ৩০টি।
ট্রানজিট ফ্লাইটগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে এমিরেটসের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৮টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৮টি, সালাম এয়ারের ৭টি এবং মিশরের একটি ফ্লাইট।
বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করেন। ছুটি কাটিয়ে দেশে ফেরা প্রবাসীদেরও প্রতিদিন বিভিন্ন ফ্লাইটে আসতে হয়। ফলে ফ্লাইট পরিচালনায় বিঘ্নের প্রভাব পড়েছে দুই দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার ওপরই।
সময়সূচি পরিবর্তন বা পরিচালনায় সীমাবদ্ধতা থাকলে যাত্রীদের বিমানবন্দরে দীর্ঘ অপেক্ষা, সংযোগ ফ্লাইট মিস করা এবং নতুন করে ভ্রমণ পরিকল্পনা সাজানোর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। কর্মস্থলে যোগদানের নির্ধারিত সময় থাকা প্রবাসী কর্মীদের জন্য এই অনিশ্চয়তা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট পরিচালনার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সৌদিগামী যাত্রীদের পাশাপাশি সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরতে ইচ্ছুক যাত্রীদের ভ্রমণ পরিকল্পনায়ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতির কারণে যাত্রীদের যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ অবস্থা নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনার এই সীমাবদ্ধতা কত দিন থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে দুই দেশের আকাশপথে স্বাভাবিক যোগাযোগ পুরোপুরি ফিরতে আরও সময় লাগতে পারে।


