তালেবানকে ভারতের ‘প্রক্সি’ বলল পাকিস্তান সেনাবাহিনী, প্রস্তুতিতে এগিয়ে থাকার দাবি

আফগান তালেবানকে ভারতের ‘প্রক্সি’ হিসেবে অভিহিত করেছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে দেশটি দাবি করেছে, আফগান তালেবান ও ভারতের তুলনায় অপারেশনাল প্রস্তুতির দিক থেকে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে রয়েছে।
পাকিস্তানের ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনসের (আইএসপিআর) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী এ কথা বলেছেন। গত শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া তার দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার বিষয়টি উঠে আসে এবং রবিবার ডন অনলাইন সেই সাক্ষাৎকারের কিছু অংশ সামনে আনে।
আফগান তালেবানের ড্রোন ব্যবহার নিয়ে ইসলামাবাদ উদ্বিগ্ন কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে শরিফ চৌধুরী বলেন, আফগানিস্তান ড্রোন ব্যবহার করছে বলে তিনি উদ্বিগ্ন হবেন, এমন ভাবা অত্যন্ত সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি।
তিনি বলেন, আফগান তালেবানের নিজস্ব কোনো সামরিক সক্ষমতা নেই; তাদের যা কিছু আছে, তা পৃষ্ঠপোষকদের দেওয়া। একই বক্তব্যে তিনি ভারতকে ‘সন্ত্রাসবাদের সবচেয়ে বড় মদতদাতা’ বলে অভিযুক্ত করেন।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী স্মরণ করিয়ে দেন, ভারতের সঙ্গে ২০২৫ সালের মে মাসের সংঘাতের সময় পাকিস্তান পূর্ব সীমান্ত দিয়ে পাঠানো অত্যন্ত অত্যাধুনিক ডজনখানেক ড্রোন ভূপাতিত করেছিল।
তিনি বলেন, সেগুলো যেখান থেকেই আসুক না কেন, পাকিস্তান সেগুলোকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল এবং সেটি প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা। তার ভাষায়, অপারেশনাল প্রস্তুতির দিক থেকে পাকিস্তান অনেক এগিয়ে আছে।
আইএসপিআর মহাপরিচালক জানান, পাকিস্তান সেনাবাহিনী যুদ্ধের পরিবর্তিত প্রকৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে পেশাদার ও সুচিন্তিতভাবে নিজেদের প্রস্তুত করছে এবং নতুন উদীয়মান প্রযুক্তি গ্রহণ করছে।
তিনি বলেন, দূরপাল্লার বা প্রযুক্তিভিত্তিক যুদ্ধ হোক কিংবা সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধ — সাইবার ক্ষেত্র, ড্রোন প্রযুক্তি বা দূরপাল্লার অভিযান — সব ক্ষেত্রেই বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, সে বিষয়ে তারা সচেতন।
একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তালেবান, খারেজি বা হুথিদের মতো রাষ্ট্রবহির্ভূত গোষ্ঠীগুলোর হাতে এই ধরনের দূরপাল্লার যুদ্ধ সরঞ্জামের বিস্তার সবার জন্যই একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আফগানিস্তানে লক্ষ্যবস্তু শনাক্তে পাকিস্তান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করেছে কি না — এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল চৌধুরী বলেন, সামরিক বাহিনী কীভাবে এআই, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, সাইবার প্রযুক্তি ও অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত আলোচনা করতে পারবেন না; তবে এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা সম্ভব এবং তা করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান একটি প্রযুক্তি সচেতন সেনাবাহিনী।


