কুমিল্লার দেবিদ্বারে আলিমে পাস করেনি কেউই: বাগমারা মাদ্রাসায় ছিল না আলিমের একজন শিক্ষকও

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শনিবার ফল প্রকাশের পর এই বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে গিয়ে জানা গেছে, মাদ্রাসাটিতে আলিম বিভাগের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষকই ছিলেন না; এত দিন দাখিল পর্যায়ের শিক্ষকেরাই আলিমের শিক্ষার্থীদের পড়িয়েছেন।
অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুর রাজ্জাক রোববার সন্ধ্যায় বলেন, ২১ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১৬ জন—তিনজন ছাত্র ও ১৩ জন ছাত্রী। ফল প্রকাশের পর স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের দাখিল বিভাগটি এমপিওভুক্ত। কিন্তু আলিম বিভাগ নন-এমপিও হওয়ায় আলিম বিভাগের জন্য আলাদা কোনো শিক্ষক নেই। দাখিল বিভাগের শিক্ষকদের দিয়েই আলিম বিভাগ পরিচালনা করে আসছি। আমরা আশা করেছিলাম অন্তত ৮-১০ জন পরীক্ষায় পাস করবে, তবে এমন ফলাফল হবে তা ভাবিনি।’
তিনি আরও বলেন, দাখিল বিভাগে ১৪ জন শিক্ষক ও চারজন কর্মচারী দিয়ে মাদ্রাসাটি চলছে, সেখানেও ১০ জন শিক্ষক কম রয়েছে। এমপিওভুক্তির আশায় কোনোরকমে আলিম বিভাগটি চালু রাখা হয়েছে।
অধ্যক্ষ জানান, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকের বিয়ে হয়ে গেছে; তাদের বারবার ডেকে এনে কোচিং করিয়ে পরীক্ষায় বসানো হয়েছে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ফল নিয়ে চ্যালেঞ্জ করবে।
মাদ্রাসার সভাপতি অ্যাডভোকেট আবু মুসা ভূঁইয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, মাদ্রাসার অনেক ভালো শিক্ষার্থী দাখিল পাস করার পর বিভিন্ন কলেজে ভর্তি হয়ে যায়, ফলে উচ্চশিক্ষায় মেধাবীরা সেখানে থাকে না। তিনি বলেন, বাগমারা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার ফল বিপর্যয়ের বিষয়টি নিয়ে তারা বসবেন এবং ভবিষ্যতে কীভাবে ভালো ফল করা যায়, সেই লক্ষ্যে কাজ করবেন।
প্রসঙ্গত, কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ। এ বছর মোট ৯২ হাজার ১৬২ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৪৪ হাজার ২৭২ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৩১৩ জন।




